যুদ্ধ মোকাবেলা সম্ভব নয় : ভারত

ভারতের সাম্প্রতিক ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত করার বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় দেশটির চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিগত যুদ্ধগুলির ধরন ও কাঠামোর অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী যুদ্ধের মোকাবেলা করা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। ৭ এপ্রিল বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক বিশদ আলোচনায় তিনি একথা জানান।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারী ভারতের প্রথম সিডিএস হিসাবে নিযুক্ত স্টাফ কমিটির প্রধানদের স্থায়ী চেয়ারম্যান (সিওএসসি), সামরিক বিষয়ক বিভাগের (ডিএমএ) প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা এবং ভারতের জ্যেষ্ঠতম সামরিক কমান্ডার রাওয়াত বলেছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র সাথে নিয়ে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে শুরু করে নন কনট্যাক্ট, প্রচলিত এবং মুখোমুখি যুদ্ধ পর্যন্ত সংঘাতের পুরো ক্ষেত্র জুড়ে দেশ একাধিক হুমকির সম্মুখীন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি জন্য দেশটিকে ভিন্ন ভিন্ন যা করতে হবে, বর্তমানের প্রয়োজনীয়তার সাথে তার ভারসাম্য বজায় রাখাটা সংঙ্কটপূর্ণ।’

রাওয়াত ভারতের সম্পূর্ণ যুদ্ধক্ষমতার বাগানোর জন্য ৩ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, নাগরিক ও সামরিক প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টার সম্মিলন, এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সুরক্ষার মধ্যে একটি প্রতীকী সম্পর্ক স্থাপনের কয়েকটি মূল বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন, যেগুলি উদীয়মান প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে হুমকির সম্মুখীন করতে পারে।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিবেশ ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি পরিবর্তনের দাবি করছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী কৌশলগুলি যেগুলি ভারতের জাতীয় সুরক্ষায় আন্ত:রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্দেশীয় বিরোধে দৃষ্টান্ত হিসাবে বিবেচিত হত, সেগুলি এখন আর চরম সমস্যাগুলিতে বিদ্যমান জটিল নিরাপত্তা সংযোগগুলিকে পর্যাপ্তরূপে ধারণ করতে সক্ষম নয়।’

সাইবার হুমকির পাশাপাশি মানবিক ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক সঙ্কটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিতে চীন ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে এবং তারা সাইবার আক্রমণ চালাতে এবং বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সিস্টেমকে ব্যাহত করতে সক্ষম।’ রাওয়াত আরও বলেন, ‘পরিবর্তিত প্রতিরক্ষা পরিবেশের সাথে মিল রেখে সংহতি, সম্মিলন ও আধুনিকীকরণের পাশাপাশি সম্পদের সর্বোচ্চ অনুক‚ল ব্যবহার জরুরি।’

রাওয়াত বলেছেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী দেখায় যে, আমরা বর্তমানে যে বড় বড় হুমকির মুখোমুখি, সেগুলি কোনও সীমানা মানে না। যেমন কোভিড-১৯ মহামারী, জৈবাস্ত্রের ঝুঁকি, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট, সাইবার ও ডিজিটাল হুমকি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়, দীর্ঘায়িত মানবিক সংকট, সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ, ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার।

বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় করণে ভারত ইতোমধ্যে পিছিয়ে রয়েছে যা অন্যান্য দেশগুলি, বিশেষত চীন ইতিমধ্যে শুরু করেছে। রাওয়াত বলেছেন, ‘সংকুচিত বাজেটের পেক্ষাপটে সামরিক ও নাগরিক প্রচেষ্টার সমন্বয় করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘অস্পষ্টতা, অনিশ্চয়তা এবং অস্বচ্ছ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক, সামরিক, ক‚টনৈতিক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পক্ষ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জাতীয় সুরক্ষার বিষয়ে এক দফা পরামর্শ আকারে একটি বিস্তৃত, সম্পূর্ণ ও মূল্যায়নযোগ্য বিকল্প সরবরাহ করা প্রয়োজন।’

আগামী মে’র মধ্যে এয়ার ডিফেন্স কমান্ড এবং মেরিটাইম থিয়েটার কমান্ড চালু হওয়ার সাথে সাথে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে ভারত তার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানোর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিকল্পনারগুলির আনুষ্ঠানিক রোল আউট শুরু করতে চলেছে। ভারতের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টগুলি সুরক্ষার জন্য আরও ৩টি সম্মিলিত কমান্ড নিয়োগ করবে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কার্যকর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English