Sunday, November 27, 2022
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকচীনে ফোনের বিনিময়ে চাল কিনছেন বাসিন্দারা

চীনে ফোনের বিনিময়ে চাল কিনছেন বাসিন্দারা

লকডাউনে অর্থনৈতিক সংকট

চীনে নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির প্রশাসন। ফলে, ঘর ছেড়ে বাইরে যেতে পারছেন না বাসিন্দারা। ফলে, তাদের অর্থনৈতিক সংকট এতটা প্রকট হয়েছে যে হাতের স্মার্ট ফোনের বিনিময়ে খাদ্যদ্রব্য কিনছেন তারা।

চীনের জিয়ান শহরের বাসিন্দাদের এমন দুর্বিষহ চিত্র তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। আজ মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, জিয়ানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা কিছু বাসিন্দা অব্যাহত খাদ্য সংকটের মুখে সরবরাহের জন্য বিনিময় পন্থা অবলম্বন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দেখা যায়, সেখানকার বাসিন্দারা খাবারের বিনিময় করছেন। এমনকি খাবারের জন্য তারা স্মার্ট ফোন এবং অন্যান্য সরঞ্জামও বিনিময় করছেন।

করোনাভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় জিয়ানের এক কোটি ৩০ লাখ মানুষকে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিধিনিষেধ এমন কঠোর করা হয়েছে যে, খাবার কেনার জন্যও কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারছেন না।

গত কয়েক দিনে জিয়ানের অনেক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছেন। শহর কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক পরিবারে বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করলেও কেউ কেউ বলছেন, খাবারের সরবরাহ অনেক কম অথবা তারা এখন পর্যন্ত কোনও সহায়তাই পাননি।

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে শেয়ার করা ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, লোকজন বাঁধাকপির জন্য সিগারেট, আপেলের জন্য থালা-বাসন ধোয়ার লিকুইড এবং সবজির জন্য স্যানিটারি প্যাড বিনিময় করছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন বাসিন্দা তার গেইম খেলার একটি সরঞ্জামের বিনিময়ে ইন্সট্যান্ট নুডলসের একটি প্যাকেট এবং দুটি স্টিমড বান নিচ্ছেন।

ওয়াং নামের একজন বাসিন্দা আরএফএ নিউজকে বলেছেন, লোকজন একই ভবনে অন্যদের সাথে জিনিসপত্র অদলবদল করছেন। কারণ তাদের খাওয়ার মতো আর পর্যাপ্ত খাবার নেই। চালের জন্য অন্য একজন ব্যক্তি তার একটি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট বিনিময় করেছেন বলে জানিয়েছে এই সংবাদমাধ্যম।

একজন উইবো ব্যবহারকারী বলেছেন, অসহায় নাগরিকরা বিনিময় প্রথার যুগে পৌঁছেছে। তুলার সোয়াবের জন্য অনেকে আলু বিনিময় করছেন। অন্য একজন জিয়ানের এমন ঘটনাকে ‘প্রাচীন সমাজে প্রত্যাবর্তন’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

তবে অনেকে এখনও আশাবাদী। অনেক প্রতিবেশী নিজেদের খাবার অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। আর এমন ঘটনা ছুঁয়ে গেছে অনেকের হৃদয়।

চীনে বর্তমানে করোনার যে প্রাদুর্ভাব চলছে তার উপকেন্দ্র জিয়ান। কর্তৃপক্ষ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লকডাউন ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনলাইনে অনেকেই ব্যাপক সমালোচনা করছেন।

গত ১ জানুয়ারি জিয়ানের দক্ষিণাঞ্চলের মিংদে-৮ ইংলি আবাসন ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যরাতে বাড়ি ছেড়ে সরকারি কোয়ারেন্টাইন স্থাপনায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাঝরাতে বাসিন্দাদের কোয়ারেন্টাইন স্থাপনায় যাওয়ার এই নির্দেশ নিয়ে অনেকেই অনলাইনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হওয়ায় চীনা কর্তৃপক্ষ জিরো-কোভিড নীতি গ্রহণ করেছে। আগামী চীনা নতুন চন্দ্রবর্ষ এবং আগামী মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য শীতকালীন অলিম্পিকের আগে এই প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নির্মূলের আশা করছে দেশটির সরকার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments