Monday, May 20, 2024
spot_img
Homeজাতীয়চাহিদামতো পণ্য দিতে পারছে না টিসিবি

চাহিদামতো পণ্য দিতে পারছে না টিসিবি

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। এ অবস্থায় ভরসা কেবল টিসিবি পণ্যে। কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে তেল, চিনি, ডাল সহ কয়েকটি পণ্য বিক্রি করছে সরকারি বিপণন সংস্থাটি। তবে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য দিতে পারছে না তারা। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হয় অনেকের। এ ছাড়া, মাসের ২০ থেকে ২২ দিন পর্যন্ত পণ্য দেয়া হলেও বাকি দিনগুলোতে বাজার থেকেই উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে হয়। তারা বলছেন, বাজারে এখন প্রায় সব পণ্যের দামই চড়া। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।এ অবস্থায় পুরো মাসজুড়েই পণ্য বিক্রি করার দাবি সাধারণ মানুষের। তাছাড়া, শুধুমাত্র ৪টি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনীয় আরও কিছু পণ্য যুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন তারা। ওদিকে ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, কিছুদিনের মধ্যেই টিসিবি থেকে এক কোটি পরিবারকে পণ্য দেয়া হবে।
মিরপুর এলাকায় টিসিবি’র পণ্য কিনতে এসেছেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, বাজারে এক লিটার তেল কিনতে লাগে ১৬০ টাকা। টিসিবিতে সেই তেল ১১০ টাকায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৬০ টাকা, পিয়াজ ৩০ টাকায় পাওয়া যায়। বাজারের তুলনায় এখানে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। এটা আমাদের জন্য একটু হলেও স্বস্তির। তবে পণ্যের পরিমাণ আরও বাড়ালে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। টিসিবি থেকে শুধুমাত্র ৪টি পণ্য দেয়া হয়। এই চারটি পণ্যের বাইরে অন্য পণ্যগুলোর দামও বেশি। সেগুলো যদি পাওয়া যেত, তাহলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের টিকে থাকা সম্ভব হতো। তিনি বলেন, প্রতি মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত টিসিবি পণ্য বিক্রি করে। এটা বাড়িয়ে মাসের প্রতিদিন বিক্রি করলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
খামারবাড়িতে পণ্য কিনতে এসেছিলেন সাহেরা বানু। তিনি জানতেন না টিসিবি’র পণ্য ২৬ তারিখ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। পণ্য কিনতে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। সাহেরা বানু বলেন, আমি কাল জিনিস কিনতে আইছিলাম। লাইনে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কিছু কিনতে পারি নাই। ট্রাকের মাল শেষ হয়ে গিয়েছিল। আজ যদি বিক্রি না হয় তাহলে তো সমস্যায় পড়বো।
টিসিবি’র ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির মানবজমিনকে বলেন, টিসিবি প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত পণ্য বিক্রি করে। চলতি মাসে আমরা ৪ দিন বাড়িয়ে ২৬ তারিখ পর্যন্ত করি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবার বিক্রি শুরু হবে। বন্ধ থাকার দিনগুলো পণ্যের গুদামজাতকরণ ও হিসাব নিকাশের জন্য পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।
তিনি বলেন, ১০০ জনবল দিয়ে সারা বাংলাদেশের টিসিবি’র ১৩টি অফিস চলে। এত কম মানুষ দিয়ে এত বড় সার্ভিস দিচ্ছে টিসিবি। তিনি বলেন, আগামী মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ কোটি পরিবারকে টিসিবি’র আওতায় আনতে বলেছেন। অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি মানুষকে টিসিবি’র আওতায় আনতে হবে। ৩০ শতাংশ মানুষকে কাভার করতে হবে। সামনে আবার রমজান মাস আসছে। রমজান মাসে টিসিবি সর্বোচ্চ পর্যায়ে সেবা দেয়। সুতরাং এত বড় কর্মযোগ্যগুলো শুরু করতে হলে সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েই করতে হবে। এজন্য আমরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। আরও বেশি সংখ্যক ভোক্তাদের দোরগোড়ায় টিসিবি’র পণ্য পৌঁছে দিতে আমাদের কার্যক্রম চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments