Saturday, July 20, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামচট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসাবে পরিচিত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এ বন্দরকে কেন্দ্র করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানির ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে আলোচিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন ও গবেষণা পরিষদ। সম্প্রতি চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সভায় এ তাগিদ দেওয়া হয়। জানা গেছে, ১৯৭৭ সাল থেকে এ বন্দরে কনটেইনারের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি পণ্যসামগ্রী পরিবহণ শুরু হয়, যা এখন প্রায় ৩২ লাখ টিইইউএস কনটেইনারে উন্নীত হয়েছে। আগামীতে ভারতের কয়েকটি রাজ্যকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়া হলে এ বন্দরের ব্যস্ততা আরও বাড়বে। এ অবস্থায় দেশের ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়াতে হবে। চলমান পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও বে-টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা গেলে আমদানি-রপ্তানিকারকরা এর সুফল পাবেন। বে-টার্মিনালের নির্মাণকাজের মতো মেগা প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করার কাজটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে যোগ্য ও অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এটি নিশ্চিত করা দরকার। আমাদের দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় ব্যবসায়ীরা কতভাবে পিছিয়ে আছে বিষয়টি বহুল আলোচিত।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পে বন্দর এলাকাকে সংযুক্ত করা দরকার। মেট্রোরেলের সঙ্গে বন্দর এলাকাকে সংযুক্ত করা হলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সার্বিক সক্ষমতা বাড়বে, যা বলাই বাহুল্য। কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার পাশাপাশি বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বন্দরের কনটেইনারজট এড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যানবাহনের চাপের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহণে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয় তা-ও বহুল আলোচিত। রেল ও জলপথে ঢাকা-চট্টগ্রামে কনটেইনার পরিবহণ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বর্তমানে বছরে রেলের মাধ্যমে ৭০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার পরিবহণ হয়; তা কয়েক লাখে উন্নীত করা দরকার। এতে রেলওয়ের আয় বাড়ার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নসহ যন্ত্রপাতি কেনাকাটার ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যয় ক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার। মোটকথা আমদানি-রপ্তানির ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments