Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামঘটেই চলেছে অগ্নিকাণ্ড

ঘটেই চলেছে অগ্নিকাণ্ড

সোমবার চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেনে একটি পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব্যক্তি আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিন বেলা ১১টায় দেবীদাস ঘাট এলাকার বরিশাল হোটেলের রান্নাঘরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ভবনটির দোতলা, তিনতলা ও চারতলায় প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারখানা ছিল।

এ কারণে আগুনের ভয়াবহতা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জাতীয় শোক দিবসের ছুটি থাকায় কারখানা বন্ধ ছিল, যে কারণে ওই ভবনে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। কারখানা বন্ধ না থাকলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতো।

গত এক দশকে পুরান ঢাকায় তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। নিমতলীর রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এখনো আমাদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। সেই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৪ জন। ওই ঘটনার পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু স্থানান্তরিত হয়নি সেসব গুদাম অথবা কারখানা। এরই মধ্যে নিমতলী থেকে ১ কিলোমিটার দূরে চুড়িহাট্টায় ঘটে আরেকটি অগ্নিকাণ্ড, যে ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৭৮ জন। এ অগ্নিকাণ্ডও ঘটেছিল রাসায়নিক পদার্থ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও কেমিক্যালসংশ্লিষ্ট প্রায় ২ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ট্রেড লাইসেন্সও নেই। অর্থাৎ কেমিক্যাল ব্যবসা চলছে অবৈধভাবে।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার কোনোটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তদন্ত কমিটি হয়। তদন্ত কমিটি কেমিক্যাল কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশও করে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে কেমিক্যাল কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু আশ্চর্যই বলতে হবে, এসব প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘ সময়েও নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। আর এ কারণেই পুরান ঢাকার কামালবাগ, ইসলামবাগ ও চকবাজার এলাকায় দেদার চলছে কেমিক্যাল বিক্রি ও এর ব্যবহার। গুদাম থেকে ট্রাকে করে বিভিন্ন কারখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেমিক্যাল। সোমবারের দুর্ঘটনার পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবারও দেখা গেছে পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল বিক্রি ও পরিবহণ হচ্ছে।

আমাদের প্রশ্ন হলো, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থের গুদাম ও কারখানা কবে সরিয়ে নেওয়া হবে? ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম ও কেমিক্যালজাতীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নাকি শিল্প মন্ত্রণালয় কাজও করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কথা হলো-এ ধরনের কথা তো আমরা অনেক দিন আগে থেকেই শুনে আসছি। দ্রুততম সময়টা আসলে কত দ্রুত?

পুরান ঢাকার অধিবাসীরা সবসময় এক আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করেন। কখন, কোন গুদামে আগুন লাগে এ ভয়ে থাকেন তারা। আমাদের শেষ কথা হলো, পুরান ঢাকার অধিবাসীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে তাদের জীবন যাবে, এটা চলতে পারে না। দক্ষিণের মেয়রের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার অবিলম্বে পুরান ঢাকাকে কেমিক্যালমুক্ত করবে-এটাই প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments