Tuesday, May 28, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামগ্যাস সংকটে হুমকিতে শিল্প

গ্যাস সংকটে হুমকিতে শিল্প

ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকটের মধ্যেই এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শুক্রবার চট্টগ্রামে বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাওয়া গ্যাস চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হয়। জানা যায়, একটি এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত শেষে টার্মিনালটি চালু করতে গেলে পুনরায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, চট্টগ্রামে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ৫০ মিলিয়ন আবাসিক ও ৫০ মিলিয়ন শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হয়। বাকি গ্যাস ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ ও সার কারখানায়। আমরা মনে করি, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যে কোনো সময় টেকনিক্যাল সমস্যা হতেই পারে। তবে সে সমস্যা সমাধানের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। একটি টার্মিনালে সমস্যা হলে বিকল্প হিসাবে যেন অন্য একটি থেকে গ্যাস সরবরাহ করা যায়, সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, দেশে বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরই শীত মৌসুমে দেশে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। মূলত চাহিদানুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকাই এর মূল কারণ। তবে এবারের সংকটের ফলে শিল্প উৎপাদনে ধস নেমেছে। গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর, কাশিমপুর, নারায়ণগঞ্জসহ অনেক স্থানের বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে।

শ্রমিকরা কারখানায় এলেও গ্যাস সংকটের কারণে কাজ করতে পারছেন না। কারখানা মালিকরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনলেও সংকটের কোনো সুরাহা মিলছে না। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, শিল্প-কারখানা বন্ধ হলে কিংবা বেতন দিতে না পারলে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। এতে অর্থনীতির ওপর চাপ পড়বে।

মনে রাখা দরকার, দেশে ডলার আসার যে কয়টি ক্ষেত্র রয়েছে তার মধ্যে রপ্তানি বাণিজ্য অন্যতম। রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা যদি গ্যাস সংকটে ভোগে, তাহলে উৎপাদন যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি ডলার আয়ের প্রবাহ কমে গেলে এর প্রভাবও দেশের অর্থনীতিতে পড়বে। আবার গ্যাসের অভাবে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারে ব্যয় বেড়ে গেলে উৎপাদিত পণ্যের দামও বেড়ে যাবে, যার প্রভাব অভ্যন্তরীণ তো বটেই, আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়বে। চাহিদামাফিক উৎপাদিত পণ্য সময়মতো সরবরাহ করতে না পারলে কিংবা পণ্যের গুণগত মান ঠিক না থাকলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমিয়ে দিতে, এমনকি বাতিলও করতে পারেন, যা অর্থনীতির জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক হবে না। এ অবস্থায় গ্যাস সংকট কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির পরিমাণও প্রয়োজনমাফিক বাড়াতে হবে। সর্বোপরি জ্বালানি খাতে স্মার্ট ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে নিকট ভবিষ্যতে এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না। সরকার দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments