Friday, May 24, 2024
spot_img
Homeকমিউনিটি সংবাদ USAগাজা ইস্যুতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

গাজা ইস্যুতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান রাশিয়ার

কয়েকদিনের তীব্র আলোচনা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়া এড়াতে বাইডেন প্রশাসনকে সম্মত করেছে। তবে এটি বিদেশে মার্কিন ভাবমূর্তি রক্ষা করতে পারছে না। গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসরায়েলকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করে এবং এর হামাসকে ধ্বংস করার লক্ষ্যকে সমর্থন করে এবং দেশটিকে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করে এবং বিশ্বের বেশিরভাগ অংশই বাইডেন প্রশাসনকে দেখছে গাজায় প্রাণঘাতী ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে একতরফাভাবে বৈধতা দিতে। কিন্তু গাজা সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কূটনৈতিক লক্ষ্যকে এবং বিশ^ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করে তুলছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে যে, সেখানে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সাবেক কূটনীতিক এবং রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ডিপ্লোমেসির পরিচালক বারবারা বোডিন সতর্ক করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া থেকে অর্জিত বৈশ্বিক সমর্থন হারিয়েছে। তিনি বলেন, ‹অনেক বন্ধু এবং মিত্রদের জন্য, এটি ইউক্রেনের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিচ্ছিন হয়ে পড়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্র এখন ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের মতো কট্টর মিত্রদের সাথে মতবিরোধে রয়েছে, যাদের সবাই এই মাসের শুরুতে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবের জন্য ভোট দিয়েছে। যে কোনো যুদ্ধবিরতি হামাসকে পুনর্সংগঠিত হওয়ার এবং ইসরায়েলকে আবার আক্রমণ করার সুযোগ দেবে, এই উছিলাতে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি, যারা রাশিয়াকে দায়বদ্ধ রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে, তারা এখন গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত ইসরায়েলকে সমর্থন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করছে।

ঊর্ধ্বতন বাইডেন কর্মকর্তারা যারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপকে একত্রিত করার একটি কারণ পেয়েছিলেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলের পক্ষে প্রচারণা এবং এটিকে জায়েজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা, যা ব্যাপক দুর্ভোগ এবং বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, তার কারণে গত সপ্তাহগুলি তাদের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সঙ্ঘাত প্রতিরোধ সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ রিচার্ড গোয়ান বলেন, ‹এখন কোনো মার্কিন কর্মকর্তা এই পরিস্থিতি পছন্দ করছেন না।›

বাইডেনের কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার সাথে তাদের দ্বন্দ্ব এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা একটি নৃশংস এবং বিনা প্ররোচনার শিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব এন্টনি ব্লিঙ্কেন আলাদাভাবে বলেছেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা বিশ্বজুড়ে নৈতিক স্বচ্ছতার মুহূর্ত ছিল।

ব্লিঙ্কেন বুধবার বলেছেন যে, ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের দেশগুলিকে সমবেত করা অব্যাহত রেখেছে এবং চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন অবস্থানকে শক্তিশালী করতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দূষণমুক্ত জ¦ালানীর বিষয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইসরায়েল ও গাজা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলোর পাশাপাশি, বিশ্বের দেশগুলো আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায় এবং এই সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব খুঁজছে।’

কিন্তু, বোডিন বলেছেন যে, বেশিরভাগ বিশ্ব এই জিনিসগুলিকে ভিন্নভাবে দেখছে, বিশেষত, তথাকথিত বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলি, যেগুলি যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা রাশিয়ার মতো কোনও বড় শক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারত সহ এদের অনেকেই ইউক্রেনের ওপর মার্কিন ঝোঁককে কখনও বীরত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেনি, যা ইউরোপের বেশিরভাগ অংশ করেছে।

বোডিন বলেন, ‘বৈশ্বিক দক্ষিণের বেশির ভাগই অনুভব করেনি যে, তাদের দ্বন্দ্ব এবং সমস্যাগুলি একই স্তরের উদ্বেগ ও পদক্ষেপ নিয়ে এসেছে। তারপর, যখন বাইডেন এবং অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তারা ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি সামরিক প্রতিক্রিয়াকে নির্বিচারে বৈধতা দিয়েছেন, দক্ষিণে অনেকের কাছে বেদনাদায়কভাবে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, এখানে একটি দ্বিমুখি আচরণ রয়েছে।

ক্রাইসিস গ্রুপের গোয়ান সতর্ক করে বলেছেন যে, গাজার উপর অনৈতিক আচরণ বৈশি^ক দক্ষিণের দেশগুলির সমর্থন অর্জন করা কঠিন করে তুলবে, বিশেষ করে ইউক্রেন-পন্থী নীতি প্রণয়নের জন্য। গোয়ান বলেন, ‹দিন শেষে রাশিয়ান কৌশল কাজ করছে, কারণ জাতিসংঘের বাইরে সবাই যা দেখে, তা হল রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments