Wednesday, December 8, 2021
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামগণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আলোচনার পরিসর

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আলোচনার পরিসর

ড. মাহফুজ পারভেজ

সাধারণ জ্ঞানের একটি চমকপ্রদ প্রশ্ন হতে পারে, আওয়ামী ও বিএনপি সর্বশেষ কবে আলাপ-আলোচনায় বসেছিল? চট করে এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউই দিতে পারবেন না। অনেক চিন্তা-ভাবনা ও তথ্য-তালাশ করে তবেই এই প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব হবে।

অথচ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আলোচনার পরিসর সব সময়ই উন্মুক্ত, চলমান ও স্বাস্থ্যকর থাকা অপরিহার্য। শত বিরূপতা, বিতণ্ডা ও বিরোধিতার পরেও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দলগুলোকে আলোচনা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কখনওই শত্রুতায় পর্যবসিত করা হয় না।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আলোচনার পরিসর বিধিবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানে যেমন চলমান থাকে, তেমনই অপ্রাতিষ্ঠানিক ও নন-ফরমাল ক্ষেত্রেও চলতে থাকে। বিভিন্ন ইস্যুতে, সঙ্কট ও সংঘাতের মুখে দলগুলোর ফর্মাল ও ইনফর্মাল আলাপ, আলোচনা, সংলাপ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনয়ন করে এবং শক্তি বাড়ায়।

বিশ্বের দেশে দেশে চরম বিরোধীরাও, আর যাই হোক, সংলাপ ও আলোচনা বন্ধ করে না। সুশাসনের লক্ষ্যে তর্ক-বিতর্ক ও চর্চা অব্যাহত রাখে। জাতীয় সঙ্কটে, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়, জরুরি প্রয়োজনে দলগুলো দ্রুত আলাপ-আলোচনায় মিলিত হতে অভ্যস্ত এবং জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে উপনীত হতে পারঙ্গম।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ক্লাসিকাল যে কোনও গ্রন্থে সংলাপ ও আলোচনার গুরুত্ব লিপিবদ্ধ রয়েছে।সংলাপ ও আলাপ-আলোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংলাপ ও আলাপ-আলোচনা হলো হিংসা, বিদ্বেষ ও দূরত্ব পরিহারের পন্থা। এজন্য বলা হয়েছে, ‘Dialogue is the best way to resolve problems. It is the only way to reach decisions that are acceptable to everybody. Dialogue is the primary means of avoiding, or resolving, conflict. What separates democracy from other political philosophies is the principle and practice of solving differences first and foremost through dialogue.’ অন্যভাবে বললে, গণতান্ত্রিক মতাদর্শের সঙ্গে অন্যান্য মতবাদ তথা স্বৈরতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্রের পার্থক্য স্পষ্ট হয় সংলাপ বা আলাপ-আলোচনা বিরাজমান থাকা না-থাকার ভিত্তিতে।

গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদার আলোচনার পরিবেশ ও সহনশীল মনোভাব বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতটুকু কার্যকর, সে প্রশ্নের উত্তর সন্ধান অবান্তর। এদেশে প্রধান দলগুলোর মধ্যে এক অঘোষিত স্নায়ুযুদ্ধ চলমান। তাদের মধ্যে কথাবার্তা বা ক্ষেত্র বিশেষে মুখ চাওয়া-চাওয়ি পর্যন্ত বন্ধ থাকে। বরং ভাষা ব্যবহার ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিংবা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সময় সংলাপের বদলে উষ্মা লক্ষ্যণীয়।

কেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে নানা বিবদমান ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনা ও সংলাপ করতে পারছে না বা করছে না, এক কথায় তার উত্তর দেওয়া দুরূহ। এজন্য অতীত ইতিহাস থেকে বর্তমান পর্যন্ত দীর্ঘ পর্যালোচনা যেমন প্রয়োজন, তেমনিভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইচ্ছা, অনিচ্ছা, আগ্রহ ও দক্ষতার বিষয়গুলোও জড়িত। তবে, কারণ যা-ই হোক না কেন, এই সংলাপ ও আলাপ-আলোচনা ‘বিহীন পরিবেশ’ তাত্ত্বিকভাবে নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং শক্তির হানি ঘটায়। এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে। মূল চিন্তার বিষয় এখানেই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments