Friday, May 24, 2024
spot_img
Homeজাতীয়খোলাবাজারে ডলার ১০৫ টাকা

খোলাবাজারে ডলার ১০৫ টাকা

গতকাল অন্তত ২.৫ টাকা বেড়ে খোলাবাজারে ডলার ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০৫ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও ঢাকার মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকার খোলাবাজারে ১০২.৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ডলার। দেশের খোলাবাজারে এর আগে গত মে মাসে ডলারের দাম ১০৪ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মতিঝিলের দোহার মানি চেঞ্জারের মালিক হাসান বলেন, সকাল থেকে আমাদের কাছে ডলার কেনার জন্য অনেক ক্রেতাই আসছেন। ডলারের সংকট চলছে সবখানে। আমরাও এর বাইরে নই। এ কারণেই দাম বাড়ছে। রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল ও বায়তুল মোকাররম এলাকার বেশ কয়েকটি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গতকাল সকাল থেকে তারা ডলার কিনছে ১০৩-১০৪ টাকা দরে। শুধু ডলারই নয়, অন্য বৈদেশিক মুদ্রার দামও বাড়ছে তাল মিলিয়ে। সৌদি রিয়াল ২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় রুপি বিক্রি হচ্ছে ১.৩০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগেও ১.২৫ টাকায় রুপি বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানিতে লাগাম টানতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও লাগাম টানা যাচ্ছে না। অস্থির ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত ডলারের দাম বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারগুলো সাধারণত বিদেশ ফেরত ও সংগ্রহে থাকা ডলার ক্রয় করে। ব্যাংকের রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের সঙ্গে এ বাজারের সম্পর্ক নেই। আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের দাম বেড়ে গেছে। কারণ, রপ্তানি বাড়লেও প্রবাসী আয় কমেছে। ডলারের দাম আনুষ্ঠানিক ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা হলেও তা খোলাবাজারে ঈদের আগে ও পরে ১০০ থেকে ১০২ টাকার মধ্যে ডলার কেনাবেচা হয়েছে। এখন তা ১০৩ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে ও পরে বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদা ভালো ছিল। কারণ, এ সময় অনেকেই বিদেশ থেকে ঈদ করতে দেশে এসেছিলেন। ফলে সরবরাহ বেড়ে যায়। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে বিদেশে গেছেন। ফলে ডলারের চাহিদা তৈরি হয়। কিন্তু এখন খোলাবাজারে ডলার সংকট রয়েছে। ফলে চাহিদা বেশি থাকাই বেশি দামে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। 

খোলাবাজারে ডলার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, খোলা বাজারে ডলার নেই, ব্যাংকেও সংকট। বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ডলার কম পাওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তেই দামের উঠানামা করছে। সকালে ১০১ টাকা দিয়ে বিক্রি করেছি, বিকালে সেটি ১০৩ টাকা হয়ে গেছে।

ডলারের মনিটরিং চায় চট্টগ্রাম চেম্বার: টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এডি (অথোরাইজড ডিলার) ব্যাংকগুলোর ডলার বিনিময় মনিটরিং করার আহ্বান জানিয়েছেন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফকে দেয়া এক চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান। চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বাড়ছে। এরইমধ্যে এ মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক অনেকগুলো নির্দেশনা জারি করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ডলারের দাম ৯৪ টাকার মধ্যে থাকলেও অনেক ব্যাংক এখন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম ১০২ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। 

এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে শিল্পের কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যয় অনেক বাড়বে, যার দায়ভার শেষ পর্যন্ত ভোক্তা সাধারণকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এডি ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের বিনিময় একই হার নির্ধারণ করে দিলেও অনেক ব্যাংক ওই নির্দেশনা প্রতিপালন করছে না এবং তাদের ইচ্ছামতো দর আদায় করছে। এই অবস্থা উত্তরণে ব্যাংকগুলোর ডলার বিনিময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন। চিঠিতে ভোগ্যপণ্যসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি এবং শিল্পোৎপাদনের ব্যয় হ্রাসে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ডলার বিনিময় মনিটরিং করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments