Tuesday, July 5, 2022
spot_img
Homeজাতীয়খালেদা জিয়ার কোন ক্ষতি হলে জনগণ সরকারকে রেহাই দেবে না: ফখরুল

খালেদা জিয়ার কোন ক্ষতি হলে জনগণ সরকারকে রেহাই দেবে না: ফখরুল

খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগের সরকারকে রেহাই দেবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনারা (সরকার) বলেন, আইনের কারণে দেশনেত্রীকে বাইরে যেতে দিতে পারছি না। কেনো মিথ্যা কথা বলেন? এখানে অনেক আইনজীবী আছেন তারা বলছেন, ওই ৪০১ ধারাতে বলা আছে একমাত্র সরকার, সরকারই পারে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে। এখন দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের, শেখ হাসিনা সরকারের। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যদি সুচিকিৎসা না হয়, যদি তার ক্ষতি হয় এদেশের মানুষ কোনোদিন আপনাদের রেহাই দেবে না। দায় সব আপনাদেরকে বহন করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গতকাল (সোমবার) রাতে ১২টায় ডা. জাহিদ (এজেডএম জাহিদ হোসেন) আমাকে টেলিফোন করলেন, আপনি এখনই চলে আসুন হাসপাতালে। আমি রাতেই হাসপাতালে গেলাম। গিয়ে দেখি আমাদের যেসমস্ত চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন প্রায় ১০ জন। তারা বসে আছেন। প্রত্যেকের মুখ অত্যন্ত অত্যন্ত আপনার কিছুটা বলা যেতে পারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন-চিন্তিত। আমরা ভয় ঠুকেছে কি হয়েছে? তারা বললেন, আমরা যেটা আশঙ্কা করেছিলাম, যেটা ভয় পাচ্ছিলাম আমরা বলেছিলাম যেকোনো সময় আবার রক্তক্ষরণ হতে পারে কালকে আবার রক্তক্ষরণ হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত আমাদের সেই চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে গত তিনটা সংকট যেভাবে পার হয়েছেন গতকাল রাতেও সেই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। একজন সংগ্রামী মহিলা দেশনেত্রী তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, অসুখের সঙ্গেও পাঞ্জা লড়ছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমত যে সকালে উঠে আমি আবার ডা. জাহিদকে জিজ্ঞাসা করলাম তিনি আমাকে জানালেন, ম্যাডাম এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। এই ভালো ডাক্তাররা বলেছেন ভালো নয়। কারণ তারা পরিস্কার করে বলেছেন যে, তার যে অসুখ সেই অসুখের চিকিৎসা এখন আর এখানে নেই। এই চিকিৎসা করতে হলে তাকে অবশ্যই বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে সেখানে উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় এই সমাবেশ হয়। সকাল ১১টা থেকে ঢাকা মহানগরের উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন থানা থেকে নেতা-কর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেয়।

সমাবেশ শুরু হয় দুপুর দেড়টায়, শেষে হয় সাড়ে ৪টায়। সমাবেশের শুরুতে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের আহবায়ক শাহ নেসারুল হক খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ শ্লোগানে শ্লোগানে হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থল মুখর করে রাখে।

কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরা থেকে ফকিরেরপুল সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের তিল পরিমান ঠাই ছিলো না। রাস্তায় বসে তারা নেতাদের বক্তব্য শুনে।

সমাবেশে ৪টি ছোট ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিশাল আকৃতির ছবি সম্বলিত ব্যানারে লেখা ছিলোপ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবিলম্বে উন্নত চিকিতসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে সমাবেশ। খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানী ছাড়াও ৮ বিভাগীয় শহরেও একযোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‘পরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, আমরা বেগম জিয়ার কাগজপত্র বিদেশে পাঠিয়েছি।কাদের সামনে বলছেন? কুটনীতিকদের সামনে, বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের সামনে। কেনো বলছেন? বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা, রাষ্ট্রদূতরা ইতিমধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে সরকারের ওপরে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠাও চিকিতসার জন্যে। তার প্রমাণ আপনারা দেখেন। এই সরকারকে গণতন্ত্র সমস্ত দেশগুলোর সম্মেলন হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। কেনো? বাংলাদেশ এখন আর গণতন্ত্রের দেশ নেই। শেখ হাসিনার অধীনে, এই সরকারের অধীনে নির্যাতন-নিপীড়নের কারনে, তাদের কর্তৃত্ববাদের, স্বৈরাচারের কারণে আজকে এই দেশ পুরোপুরিভাবে একটা কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সম্পর্কে সরকারের এক মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কি দুর্ভাগ্য আমাদের, কি জাতি আমরা, আমরা এমন একটা সরকার পেয়েছি জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। একজন মন্ত্রী বলছেন, ডাক্তাররা সাহেবকে বিএনপি যা বলতে বলেছে তারা তাই বলছেন। ধিক্কার দেই, ধিক্কার দেই আমি সেই মন্ত্রীকে। এভাবে বিদ্রুপ করে কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ নাই যে, তারা চায় খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিতসা হোক। আমাদের এখানে যেসব লোকজন আসছেন, আমার ডানে একজন রোজা রাখছে, নামাজ পড়ছে যে, আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দাও তিনি যেন আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন। এই যে কোটি কোটি মানুষের আহজারি, এই যে কোটি কোটি মানুষের ফরিয়াদ আল্লাহ কাছে নিশ্চয় পৌঁছাচ্ছে।তিনি নিশ্চয়ই বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করবেন আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবেন। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। বিশেষ করে আমার তরুন ছাত্র যুবক ভাইদের কাছে আহবান করতে চাই- এদেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি তরুনদের অংশগ্রহন ছাড়া। তোমাদের জেগে উঠতে হবে, তোমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হবে। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদেরকে সকলকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরাবো এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করব।

শুরু হয়েছে পতন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধবংস। আজকে পত্রিকাতে দেখবেন এক হাজারটা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। দেখেন শুরু হয়েছে পতন। অর্ধেকের বেশি হেরে গেছে আওয়ামী লীগ।

ঢাকা উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম মজনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, শাহিদা রফিক, তৈমুর আলম খন্দকার, আবদুল হাই, আফরোজা খানম রীতা, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবীর খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামারুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন আবদুস সালাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, সালাহউদ্দিন সরকার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments