Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeজাতীয়ক্ষমতা দেখিয়ে বুয়েটে ছাত্রলীগ

ক্ষমতা দেখিয়ে বুয়েটে ছাত্রলীগ

সিদ্ধান্তে অনড় শিক্ষার্থীরা

প্রবল উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ক্ষমতা দেখিয়েছে ছাত্রলীগ। বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটি। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী বুয়েট শহীদ মিনারে জড়ো না হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন বিকালে প্রেস বিফ্রিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কোনোক্রমেই মেনে নেয়া হবে না বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি। বৃথা যেতে দেয়া হবে না আবরার ফাহাদের রক্ত। ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার শর্তেই ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন তারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের স্বাতন্ত্র্যতাকে স্বীকৃতি দিলেও ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে কখনোই সম্মান করেনি। গতকাল বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পূর্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কালাকানুন বলে অবহিত করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন- বুয়েট পাকিস্তান নাকি যে ভিসা-পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটকে অপরাজনীতির কারখানা বানানো হচ্ছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এমন কিছু পাওয়া যায় তাহলে সরকার অ্যাকশনে যাবে।

আর ডিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন বুয়েটের চলমান আন্দোলনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা আছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, বুয়েটে রাজনীতি ফেরানো হবে কিনা তা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেবে।

পাঁচদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকালও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। যদিও নিয়মিত ও অনিয়মিত দুই শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে সাড়া না দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিন সকাল ৭টা থেকে কর্মসূচি থাকলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের পাল্টা কর্মসূচির কারণে সাময়িক স্থগিত করা হয় পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি। তবে তাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। বুয়েটের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেমিস্টার-ভিত্তিক চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০তম ব্যাচের সাগর বিশ্বাস জয় এবং ১৬তম ব্যাচের আশিকুল ইসলাম বিটু। যিনি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।

ছাত্রলীগের সমাবেশ: গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। ‘মৌলবাদী গোষ্ঠীর কালো ছায়া থেকে মুক্ত করে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির দাবিতে এবং বুয়েট কর্তৃক গৃহীত সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার পরিপন্থি শিক্ষাবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক সেই সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতারা বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কালাকানুন বলে অবহিত করেন। তারা অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবি করেন। এসময় বুয়েটে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও করা হয়। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা-ই কি সমাধান। বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কালাকানুন বাতিল করতে হবে। আইন অনুসারে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আলটিমেটাম দিচ্ছি, বুয়েটে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দিতে হবে। ইমতিয়াজ বাপ্পীকে (হলে আসন বাতিল হওয়া ছাত্র) সসম্মানে হলে বরণ করে নিতে হবে। সাদ্দামের দাবি ওইদিন এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বুয়েটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ক্যাফেটেরিয়াতে যান তিনি। ছাত্রলীগ সভাপতি প্রশ্ন রাখেন- বুয়েট কি পাকিস্তান- যে ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। তিনি বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার ফাহাদের মৃত্যু আমাদের অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তবে বুয়েট ক্যাম্পাসে হিজবুত তাহ্রীর, জেএমবি, ছাত্রশিবির রাজনীতি নিষিদ্ধের কারিগর হবে, এটা হতে পারে না।

এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, মতপ্রকাশের সুযোগ সবার রয়েছে। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয়। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করবে, কি করবে না, তার সিদ্ধান্ত কোনো চক্রান্তকারীদের ছেড়ে দেয়া যায় না। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বুয়েট ক্যাম্পাসে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সনি ও দ্বীপের কথা বুয়েট প্রশাসন ভুলে গিয়েছে। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলে হিজবুত তাহ্‌রীর ও শিবিরকে বুয়েট প্রশাসন উৎসাহিত করে। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড প্রমুখ। সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগ বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এরপর তারা বুয়েট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

শিক্ষার্থীদের ব্রিফিং: বিকালে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে আন্দোলনরত বুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার শর্তে ক্লাস পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেন, রাজনীতিমুক্ত থাকা, অপশক্তির কবল থেকে মুক্ত থাকা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীরা পেলে সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে একাডেমিক কার্যক্রমের ফেরত যাবে। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, নিরাপত্তাজনিত তীব্র শঙ্কার কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। ক্যাম্পাসের আশপাশের সকল এলাকায় গতকাল রাত থেকে ক্রমাগত মাইকিং, শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি প্রদান, সোস্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি নাম পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয় এমন সকল অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

তারা বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরেও শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। নিরাপত্তাজনিত এ সকল কারণে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আজ ক্যাম্পাসে অবস্থান না নেয়া মানে এই নয় যে, বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ছাত্র রাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের দাবি থেকে সরে এসেছে। এ দাবি বুয়েটের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। তারা আরও বলেন, বুয়েটের ২০ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, উক্ত পরীক্ষায় দুই-তিনজন বাদে সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিল। ২০ ব্যাচের ১২১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২১১ জনই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এ থেকেই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নৈতিক অবস্থান ক্যাম্পাসে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কতোটুকু সুদৃঢ় তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। হিযবুত তাহরীরসহ উগ্রবাদী সংগঠনের ক্রিয়াকলাপ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে হিযবুত তাহরীর নিয়ে কথা উঠেছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দল না বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। এদের কর্মকাণ্ড আমরা ক্যাম্পাসে দেখতে পাই বহিরাগতদের (সিসি ফুটেজ অনুযায়ী) লাগানো বিভিন্ন পোস্টার, মেইল বা প্রচারপত্র ইত্যাদির ভিত্তিতে। তাদের পরিচয় সম্পর্কে আমরা স্পষ্ট না। আমরা হিজবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয় এজন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে আমাদের স্বাতন্ত্র্যতাকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে কখনোই সম্মান করে নাই, বরং ২০২২ সালে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা বুয়েটে সমাবেশ/মিছিল করে হামলার হুমকি দিয়েছিল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ছাত্রলীগসংশ্লিষ্টরা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসের ইচ্ছাকে সম্মান না করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার নানারকম উদ্যোগ নিয়েছে। ক্রমাগত অসন্তোষ এখন তীব্র আন্দোলনে রূপ নিয়েছে শুধুমাত্র একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস চাওয়ার দাবি থেকেই। তাই আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি ভুল প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য। আমরা শপথ করছি সকল রাজনৈতিক ও নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েটকে মুক্ত রাখাবো। আমরা আবরার ফাহাদ ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের রাজনীতিমুক্ত থাকা, অপশক্তির কবল থেকে মুক্ত থাকা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীরা পেলে আমরা সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরত যাবো। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের পরীক্ষাগুলো রি-শিডিউল করার আবেদন জানিয়েছি। তারা বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা, কমিটি দেয়া, ক্যাম্পাসে শোডাউন, রাজনৈতিক সংগঠনের জনসমাবেশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার বিধি লঙ্ঘন। এ ছাড়া রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ যেখানে বুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ সেখানে রাত ৩টায় একটা রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক নেতারা দলে-বলে প্রোগ্রাম করা অবশ্যই একটা স্বাভাবিক ঘটনা না এবং সাংগঠনিক রাজনীতির প্রভাবে ঘটা ঘটনা।

যা বলেন ভিসি: অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে বুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, তখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত (ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা) নেয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাদের আবার উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যে দাবি করেছে, সেটা সঠিক না বেঠিক, সত্য কিনা, তা যাচাই করতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যাচাই করবে। তথ্য সংগ্রহ করবে, ঘটনা সত্যি কিনা। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু কেউ অপরাধ না করলে তাহলেও ব্যবস্থা নিতে হবে। সুতরাং সঠিক তথ্য জানার জন্য তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাস না হওয়া পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা চলমান আছে। পরীক্ষা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী চলবে। যদি কেউ পরীক্ষা না দেয়, তাহলে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা চাইবো, তারা (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী) পরীক্ষা অব্যাহত রাখুক, যাতে ক্যারিয়ার নষ্ট না হয়।

ওদিকে ডিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন চলমান আন্দোলনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা আছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে আমাদের টিম রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছি। তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে বুয়েটকে অপরাজনীতির কারখানা বানানো হচ্ছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বুয়েটের ঘটনা তদন্ত হচ্ছে। সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে একটা অপরাজনীতি জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হবেÑ এটা যাতে না হয়, আমরা তা তদন্ত করে দেখছি। এরকম কিছু পাওয়া গেলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments