Tuesday, May 21, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামকোরবানির চামড়া কারসাজিতে আমাদের কি কিছু যায় আসে?

কোরবানির চামড়া কারসাজিতে আমাদের কি কিছু যায় আসে?

চামড়ার দাম নিয়ে যে কারসাজি হয়, তার একটা প্রমাণ দেখা গিয়েছিল এই ঈদেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পোর্টালের সংবাদে দেখা যায়, ঈদের দিন বিকাল পর্যন্ত পোস্তার আড়তে যে চামড়া ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেটা রাতে হঠাৎ করে দ্বিগুণ দামে ঠেকে। এর কারণ আড়তগুলোতে প্রত্যাশিত সরবরাহ আসছিল না। প্রশ্ন হচ্ছে দ্বিগুণ দামে ব্যবসায়ীরা কি অহেতুক চামড়া লোকসান দিতে কিনেছে? নিশ্চয়ই নয়। তারা নিশ্চিতভাবেই জানেন তারা দ্বিগুণ দামে কিনেও লাভ করতে পারবেন। তার মানে সিন্ডিকেট করে তারা চামড়ার দাম অর্ধেকে নামিয়ে রেখেছিলেন-

ছিনতাই খারাপ, কিন্তু এর মধ্যে কি খারাপের দিক থেকে মাত্রাগত পার্থক্য আছে? এই প্রশ্নের একটা জবাব আমি পেয়েছিলাম যেদিন আমি জানতে পারি অনেক রিকশাচালক ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাই করে তাদের টাকা যেমন নেয়া হয়, তেমনি নিয়ে যাওয়া হয় অনেকের রিকশাও। কখনো কোনো কাজে অনেক বেশি টাকা সঙ্গে নিয়ে না বের হলে এই দেশের মধ্যবিত্ত থেকে উপরের দিককার মানুষের ছিনতাই তাদের ওপর খুব বড় প্রভাব ফেলে না। কিন্তু একজন রিকশাচালককে ছিনতাই করে যখন রিকশা নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সেটা তার জীবনে নিয়ে আসে ভয়ঙ্করতম দুর্ভোগ। 
একইভাবে কি বলা যায়, কোনো কোনো দুর্নীতি অন্য অনেক দুর্নীতির তুলনায় বেশি খারাপ? দেশের নানা প্রকল্প থেকে নানা রকম লুটপাট হওয়া আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ লুট করা কি একই? যদিও আবহমানকাল থেকে এই দেশের জনপ্রতিনিধিদের অনেকের বিরুদ্ধে রিলিফের নানা পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ অনেক পুরনো। 
জানি, যে মানুষগুলো চুরি করতে শিখে যান সেই মানুষদের কাছে চুরিটাই মুখ্য। সেই চুরি কার উপরে করা হয়েছে সেটা নিতান্তই গৌণ ব্যাপার হয়ে যায়। তাই কোনো চুরিকে বেশি খারাপ আর কোনো চুরিকে কম খারাপ বলে ট্যাগ করা বোকামিই। কথাগুলো গত কয়েকটি ঈদুল আজহার সময় আমার মনে পড়ে। কেন মনে পড়ে সেই আলোচনায় আসছি একটু পরে।
নিশ্চয়ই ঈদুল আজহার সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় তাৎপর্য আছে। সেটা সরিয়ে রেখে বলা যায়, মুসলিমদের আর সব ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে ঈদুল আজহার এক গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। সেটা হচ্ছে আর সব ধর্মীয় উৎসবের তুলনায় এর অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এই অর্থনৈতিক প্রভাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এতে অনেক বড় মাত্রায় আয়বণ্টন (ইনকাম ডিস্ট্রিবিউশন) হয়। এতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের কাছ থেকে সমাজের প্রান্তিক মানুষের কাছে অর্থ পৌঁছে। তাই কোরবানি এই সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত মানুষগুলোর কাছে এক বড় আশীর্বাদ। 
কোরবানিকে লক্ষ্য করে অনেক মানুষ গরু-ছাগলসহ অন্যান্য প্রাণী পালন করে। এর মধ্যে বড় বড় খামার যেমন আছে, তেমনি আছে হাজার হাজার প্রান্তিক মানুষ, যারা দুই একটা ছোট গরু কিনে সেটাকে কয়েক মাস লালন-পালন করে কিছু লাভে কোরবানির হাটে বিক্রি করেন। নিজের শ্রমের মূল্য না ধরে যে খরচ তার হয় তার তুলনায় কিছু লাভ করতে পারেন তারা। গো-খাদ্যের চরম মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক খামারিদের লাভ এখন আদৌ কতটা হয় সেটা অবশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। এই লালন-পালনের সঙ্গে প্রাণীগুলোর খাবার, ওষুধ এমন আরও অনেক আনুষঙ্গিক বিষয়ের চাহিদা তৈরি হয়। সেটায়ও অনেক মানুষের জীবিকা তৈরি হয়।

কোরবানির দিন কোরবানিকৃত প্রাণীগুলোর মাংস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বহু মানুষ আয়ের পথ পায়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে যায়, এবং আয়ের পথ দেখে। এখানে একটা দলে একজন মানুষ হয়তো এই কাজে দক্ষ থাকে বাকিরা অদক্ষ, একেবারে প্রান্তিক মানুষ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে যে অঙ্কের টাকার কোরবানি হয় তার অন্তত ১০ শতাংশ টাকা এই মানুষগুলোর কাছে যায়। 

কোরবানির মাংসের এক-তৃতীয়াংশ দরিদ্র মানুষদের অধিকার, যা পালন করেন বেশির ভাগ মানুষ। বর্তমানের মহামূল্যের গরুর মাংসের সময়ে গরিব মানুষদের অনেকেই তাকিয়ে থাকতেন বছরের এই সময়ের দিকে- পেট আর মন ভরে গরুর মাংস খেতে পাবেন তারা। যে পরিমাণ গরুর মাংস পান সেটা সংরক্ষণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই অনেকেই সেই মাংস বিক্রি করে দেন। কোরবানির মাংসের প্রতি কেজির যে দাম হয়, সেটার তুলনায় হয়তো অর্ধেক কিংবা তার কিছু কম-বেশি দামেই বিক্রি করেন তারা, কিন্তু সেটাও তাদের হাতে কিছু নগদ টাকা নিয়ে আসে যেটা দিয়ে তারা তাদের কিছু প্রয়োজন মেটাতে পারতেন। সর্বোপরি কোরবানির প্রাণীর চামড়ার মূল্যটার পুরোটা গরিব মানুষদের কাছে যায়।
গত তিন বছর (২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১) চামড়ার দামের বিপর্যয়ের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে আমাদের। গরুর চামড়া এক-দু’শ’ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেনি বহু মানুষ। ছাগলের চামড়া বিক্রির তো প্রশ্নই আসেনি। অবিক্রীত অবস্থায় পচতে শুরু করা কয়েক লাখ চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। সম্পদের এক অকল্পনীয় অপচয় হয়েছিল সেই সময়। সবচেয়ে বড়কথা ‘গরিবের হক’, চামড়া বিক্রির টাকা পৌঁছেনি গরিব মানুষের কাছে। ওই তিন বছর কত টাকা কম গিয়েছিল গরিব মানুষের কাছে?

বাংলাদেশের প্রতি বছর গড়ে ৫০ লাখ গরু আর ৬০-৭০ লাখ ছাগল কোরবানি করা হয়। প্রতিটি গরুর চামড়া যদি তার ন্যায্যমূল্যের চাইতে গড়ে ৫০০ টাকা কমে বিক্রি হয়, তাহলে গরুর চামড়া থেকে ২৫০ কোটি টাকা কম আসে। আর প্রতিটি ছাগলের চামড়া যদি গড়ে ১০০ টাকা কমে বিক্রি হয়, তাহলেও তাতে ৬০ কোটি টাকা কম আসে। অর্থাৎ প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা কম এসেছিল চামড়া বিক্রির টাকা থেকে। 

দেশের চামড়া খাতে সংশ্লিষ্টরা যখন রপ্তানিকেই তাদের একমাত্র আয়ের পথ বলে দেখানোর চেষ্টা করেন তখন সাধারণ মানুষ অন্তত জানে কোটি কোটি মানুষ ভীষণ দারিদ্র্য থেকে গেলেও বর্তমান বাংলাদেশে আর্থিক সামর্থ্য বেড়েছে অনেক মানুষের। একটার পর একটা নতুন চামড়ার ব্র্যান্ড বাজারে আসছে। আসছে প্রচুর ব্র্যান্ড ছাড়া চামড়ার জুতা-স্যান্ডেলও। বেশ কয়েক বছর থেকে এই দেশের অভ্যন্তরেই চামড়ার একটি বড় বাজার আছে। সুতরাং বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দেখিয়ে চামড়ার যাচ্ছেতাই মূল্য পতন ঘটানো একেবারেই অযৌক্তিক। কিন্তু এই চর্চাই চলেছে এখানে।

কয়েক বছর থেকে ঈদুল আজহা আসলেই কোরবানির প্রাণীর চামড়াকে যে মূল্যহীন করে দেয়া হবে সেটার একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। ২০১৯ সালে আমাদের জানানো হয় বাংলাদেশের ব্যবসা যেহেতু চীনের সঙ্গে তাই আমেরিকা-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চীনে চামড়া পাঠানো অনেক কমে গেছে। চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এমনকি এই দাবিও করা হয়েছিল যে, অনেক কন্টেইনার চামড়া নাকি তারা চীনে পাঠাতেও পারেননি। 

এরপর আসলো করোনার দোহায়। বলা হলো- করোনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাবার কথা। এই চর্চা চলছে এই বছরেও। এবার আমাদের শোনানো হচ্ছিল চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় লবণসহ ৯২ ধরনের রাসায়নিকের অনেক মূল্যবৃদ্ধির কথা। শোনানো হচ্ছিল ইউরোপে রপ্তানির জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশনের (আইএসও) এবং লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ না থাকায় ইউরোপে রপ্তানি করতে না পারার কথা। ফলে একমাত্র বাজার চীন, যেখানে দাম ভালো নেই। অর্থাৎ এ বছরও আমরা বুঝতে পারছিলাম চামড়ার দামের কারসাজি হতে যাচ্ছে।

এবারও গত দুই বারের চাইতে পরিস্থিতি খুব বেশি আলাদা কিছু হয়নি। আর গত তিন বছরের মত ঢাকার চাইতে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি বেশি খারাপ ছিল। ছোট গরুর চামড়ার ক্রেতা পাওয়া যায়নি প্রায় এবং পাওয়া গেলেও ১০০ টাকার বেশি দাম পাওয়া যায়নি। মাঝারি থেকে বড় গরুর চামড়ার কিছুটা দাম পাওয়া গিয়েছিল, যদিও সেটা ন্যায্য মূল্য তো বটেই, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে অনেক কম। খাসির চামড়া আক্ষরিক অর্থেই মূল্যহীন হয়ে গেছে। ১০ টাকা এমনকি পাঁচ টাকায় ও খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে। অসংখ্য চামড়া ৫ টাকায়ও বিক্রি করা যায়নি। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হলে একটি মাঝারি আকারের খাসির চামড়ার মূল্য কমপক্ষে ১০০ টাকা হওয়ার কথা। 

এবারকার ঈদুল আজহা এসেছে এমন প্রেক্ষাপটে যখন নানামুখী সংকটে মানুষের অবস্থা ভীষণ খারাপ। দীর্ঘ দুই বছরের করোনার ধাক্কা শেষ না হতে হতেই এক ভয়ঙ্কর মূল্যস্ফীতির কবলে পড়েছে দেশ। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতেই নতুন সংকট হিসেবে যুক্ত হয়েছে দেশের একটা অংশে বন্যা। সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জসহ আরও কয়েকটি জেলার অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বন্যায়। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ আর সিলেটে বন্যার যে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা গিয়েছিল সেটা নিকট অতীতে আর কখনো দেখা যায়নি। 

কান পাতলেই চারদিকে তথাকথিত উন্নয়নের প্রচণ্ড শক্তিশালী প্রপাগান্ডা শোনা যায়। ৩০ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু, ৪০ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকায় মেট্রোরেল, ১২ হাজার কোটি টাকায় কর্ণফুলী টানেল, সোয়া লাখ কোটি টাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আরও কত কী। যৌক্তিক ব্যয়ের কয়েক গুন বেশি খরচ করে প্রকাণ্ড ভৌত অবকাঠামাগুলো তৈরি করা সরকারটি দেশের বন্যা উপদ্রুত প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ৫-৬ কোটি টাকা। আমাদের সম্ভবত মনে আছে সিলেট বিভাগের বন্যায় যখন মানুষ বুক কিংবা গলা পরিমাণ পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন সরকার সেই অঞ্চলে মানুষের জন্য প্রাথমিকভাবে যে ত্রাণ দিয়েছিল, হিসাব করে দেখা যায় তাতে মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫৫ পয়সা আর ৪৪০ গ্রাম চাল।

এই প্রেক্ষাপটেই কোরবানিকৃত চামড়ার মোটামুটি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সারা দেশের দরিদ্র মানুষের কাছে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বেশি পৌঁছে দেয়া যেত। এটা করা যেত, সরকার তার তহবিল থেকে একটি পয়সাও না খরচ করে। কিন্তু সরকার আগাম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 
গত কয়েক বছরে দেশের চামড়া ব্যবসা করা বড় আড়তদার কিংবা ট্যানারি মালিকরা যখন বারবার বলছিলেন, নানা বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের চামড়ার চাহিদা বহির্বিশ্বে আর খুব একটা নেই, তখন খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে, তাহলে সরকার কেন পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাতকরণের আগেই চামড়া রপ্তানি করার পদক্ষেপ নেয়নি? 

গত বছর আর তার আগের বছর কোরবানি ঈদের দুই সপ্তাহ আগে সরকার একটা ঘোষণা দিয়েছিল দেশ থেকে কিছুটা প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া (ওয়েট ব্লু) রপ্তানি করা যাবে। যদিও তখন প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে রপ্তানিকারকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন এত কম সময়ে কোনোভাবেই রপ্তানির অর্ডার পাওয়া এবং রপ্তানির যাবতীয় ব্যবস্থা করা সম্ভব না। আমরা স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছিলাম চামড়া আক্ষরিক অর্থেই মূল্যহীন হয়ে যাবার প্রেক্ষাপটে ওয়েট ব্লু চামড়া ওরকম আনাড়িভাবে রপ্তানির কথা বলাটা ছিল স্রেফ ‘আইওয়াশ’।

মজার ব্যাপার চামড়া ব্যবসায়ীরা যখন নানা রকম বৈশ্বিক পরিস্থিতি দেখিয়ে বিশ্বব্যাপী চামড়ার চাহিদা না থাকার কথা বলছেন, তখন প্রতি বছরের মতো এই বছরও বিজিবি সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কাঁচা চামড়া পাচার ঠেকাতে। অর্থাৎ এটা নিশ্চিত বাংলাদেশের চাইতে বেশি দামে ভারতে কাঁচা চামড়ার চাহিদা আছে। তাহলে কী ভারতে কাঁচা চামড়া পাচার হতে দেয়া উচিত ছিল?

চামড়ার দাম নিয়ে যে কারসাজি হয়, তার একটা প্রমাণ দেখা গিয়েছিল এই ঈদেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পোর্টালের সংবাদে দেখা যায়, ঈদের দিন বিকাল পর্যন্ত পোস্তার আড়তে যে চামড়া ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেটা রাতে হঠাৎ করে দ্বিগুণ দামে ঠেকে। এর কারণ আড়তগুলোতে প্রত্যাশিত সরবরাহ আসছিল না। প্রশ্ন হচ্ছে দ্বিগুণ দামে ব্যবসায়ীরা কি অহেতুক চামড়া লোকসান দিতে কিনেছে? নিশ্চয়ই নয়। তারা নিশ্চিতভাবেই জানেন তারা দ্বিগুণ দামে কিনেও লাভ করতে পারবেন। তার মানে সিন্ডিকেট করে তারা চামড়ার দাম অর্ধেকে নামিয়ে রেখেছিলেন।

ভারতে পাচার হওয়ার প্রবণতা আমাদের সামনে একটা জিনিস স্পষ্ট করে যে, এই দেশে চামড়া নিয়ে কারসাজি হচ্ছে প্রতি বছর। চামড়া শিল্প নগরীর পরিবেশগত মানের সমস্যা, চামড়া ব্যবসায়ীদের মূলধনের অভাব, আনুষঙ্গিক রাসায়নিকের মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি যেসব অজুহাত দেখানো হয়, সেসব যাদের দেখার কথা দেখুক তারা। কিন্তু তারা আসলে দেখে না। কারণ এই শত শত কোটি টাকা যে লুট হয়, তার হিস্যা পায় সরকারের নানা মহল। 

আমি বিশ্বাস করি সিন্ডিকেট বানিয়ে চামড়া নিয়ে এসব কারসাজি রিকশা চালকের রিকশা ছিনতাই কিংবা রিলিফ চুরির মতো অপরাধ হিসাবে অনেক বেশি বড়। এটা অমানবিক, মর্মান্তিক। কাঁচা চামড়া কারসাজি থেকে চুরি হওয়া প্রতিটি টাকা সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের হাতে যাবার কথা ছিল। আমরা যারা কোরবানি করি, আমাদের যাদের হাতে সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল করার ক্ষমতা আছে, তারা এগুলো নিয়ে খুব বেশি গা করি না, কারণ চামড়ার টাকা তো আর আমরা ভোগ করতে পারি না। সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল কেন করবো আমরা? চামড়া কারসাজিতে আমাদের কি কিছু যায় আসে?

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments