Wednesday, July 17, 2024
spot_img
Homeধর্মকেমন আছে রুমানিয়ার মুসলমানরা

কেমন আছে রুমানিয়ার মুসলমানরা

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ রুমানিয়া। আয়তনে তা ইউরোপ মহাদেশের দ্বাদশ বৃহত্তম রাষ্ট্র। আয়তন দুই লাখ ৩৮ হাজার ৩৯১ বর্গকিলোমিটার। দেশটির দক্ষিণে বুলগেরিয়া, পশ্চিমে সার্বিয়া ও হাঙ্গেরি এবং পূর্বে ইউক্রেন ও মলদোভা অবস্থিত। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে রয়েছে কৃষ্ণসাগর। রুমানিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তম শহর বুখারেস্ট।

জনসংখ্যা : সিআইএর তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যা এক কোটি ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে ৮১.৯ শতাংশ অর্থোডক্স এবং ৬.৪ প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান। মুসলিমদের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৩৭৭ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে বাস্তবে তা লাখের বেশি হতে পারে। তাদের বেশির ভাগই তুর্কি ও তাতারি। লোহিত সাগরতীরে অবস্থিত মাজদিয়া শহরে  বেশির ভাগ মুসলিমের বসবাস। তা ছাড়া দেশটির সবচেয়ে উত্তর দোবরুজা ও মাহমুদিয়া শহরেও অনেক মুসলমান বাস করে। দেশটির দোবরুজা অঞ্চলে সাত শ বছরের ইসলামী ঐতিহ্য আছে। পাঁচ শ বছর ধরে তা উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।

ইসলামের আগমন : বাইজেন্টাইন যুগে সুফি নেতা সারি সালটিকের মাধ্যমে রুমানিয়ায় প্রথমবারের মতো ইসলামের আগমন ঘটে। পরবর্তী সময়ে উসমানীয় আমলে উত্তর দোবরুজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে এসে তা হ্রাস পায়। ১৮৭৮ সালে অটোমান-রুশ যুদ্ধের পর উত্তর দোবরুজা রুমানিয়ার অন্তর্ভুক্ত হলেও তাতে ধর্মীয় প্রভাব ও স্বাধীনতা বজায় ছিল। এ সময় স্থানীয় অনেক মুসলিম তুরস্কে চলে গেলেও কেউ কেউ থেকে যায়। কমিউনিস্ট শাসনামলে মুসলিমদের জীবনযাপন খুবই সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এই অঞ্চলের মুসলিমদের ধর্মীয় কার্যাবলি পরিচালনার জন্য ‘মুফতিয়েত’ নামে পৃথক একটি পদ আছে। নিযুক্ত মুফতি মুসলিম কমিউনিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মসজিদের সংখ্যা : রুমানিয়ায় মসজিদের সংখ্যা ৭০টির বেশি হলেও বেশির ভাগ মসজিদ বর্তমানে নামাজের উপযুক্ত নয়। অনেক মসজিদ এখন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব মসজিদের সংস্কারের জন্য পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ২০১৫ সালে বুখারেস্ট শহরে গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণের আলোচনা শুরু হলেও ২০১৮ সালে তহবিল সংকটে তা বাদ দেওয়া হয়।

প্রাচীনতম মসজিদ : ইসমাহান সুলতান মসজিদ রুমানিয়ার সবচেয়ে প্রাচীনতম মসজিদ। এটি কনস্টানটা কাউন্টির মঙ্গোলিয়ায় অবস্থিত। এখানে প্রায় আট শতাধিক মুসলিম পরিবার বসবাস করে। ১৫৭৫ সালে নির্মিত প্রাচীন মসজিদটি অটোমান সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের কন্যা ইসমাহানের নামে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ সালের দিকে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়।

সর্ববৃহৎ মসজিদ : কনস্টানটা গ্র্যান্ড মসজিদ (The Grand Mosque of Constana) রুমানিয়ার সর্ববৃহৎ মসজিদ। স্থানীয় মুসলিমদের কাছে তা কিংস মসজিদ নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে মসজিদটি দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিস্টোরিক্যাল মনুমেন্টসের তালিকাভুক্ত স্থান। ১৯১০ সালে রুমানিয়ান রাজ ক্যারল আইয়ের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ধর্মবিষয়কমন্ত্রী স্পিরু হারেট ও বুখারেস্টে নিযুক্ত অটোমান রাষ্ট্রদূত সেফা বে। ২০১৩ সালের ৩১ মে তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। মসজিদটি উদ্বোধনের সময় তাকে পঞ্চম মেহমেদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য মেদজিদি’ প্রদান করা হয়। মূলত বর্তমান মসজিদটি মাহমুদিয়া মসজিদের স্থানে তৈরি করা হয়। ১৮২২ সালে হাফিজ হুসাইন পাশা মসজিদটি নির্মাণ করে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের নামে নামকরণ করেন।

বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা : রুমানিয়ায় উচ্চশিক্ষিত মুসলিমদের সংখ্যাই বেশি বলে মনে করা হয়। মুসলিম ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনসের প্রধান বারি নারদিন বলেন, ‘রুমানিয়া সরকারের স্বীকৃত ধর্ম হিসেবে মুসলিমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করে। এখানে দারুল ইফতা নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। আর রুমানিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি একজন মন্ত্রীর সমমর্যাদার ব্যক্তি হিসেবে মুসলিম কমিউনিটির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি স্থানীয় মুসলিমদের পাশাপাশি অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন।’

তথ্যসূত্র : মুসলিমস অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments