Wednesday, December 8, 2021
spot_img
Homeখেলাধুলাকেন একের পর এক শোচনীয় হার ভারতের?

কেন একের পর এক শোচনীয় হার ভারতের?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হারের ধারা অব্যাহত। পাকিস্তানের কাছে দশ উইকেটে হারের পর নিউজিল্যান্ডের কাছে আট উইকেটে হার।

খাতায়-কলমে প্রবল পরাক্রান্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল। ব্যাটিংয়ে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, কে এল রাহুল, ঋষভ পন্থ, রবীন্দ্র জাদেজা, ইশান কিষাণরা সদ্যসমাপ্ত আইপিএলে মাঠ কাঁপিয়েছেন। বোলিংয়ে বুমরা, শামি, শার্দুল ঠাকুর, বরুণ চক্রবর্তীদেরও আইপিএলে খুবই ভালো ফর্মে দেখা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রথম দুই ম্যাচে ভারতীয় বোলার ও ব্যাটাররা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। তাদের ব্যাটে রান আসছে না, প্রতিপক্ষের উইকেটও তুলতে পারছেন না। মাঠভরা দর্শক চিৎকার করে ভারতীয় দলকে উৎসাহ দিচ্ছে। আমিরাতের উইকেটে আইপিএল খেলেছেন ক্রিকেটাররা। তাই উইকেটের চাল-চরিত্র-চেহারা তাদের জানা। তারপরেও লাগাতার ব্যর্থ তারা।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১১০ রান তুলতে পেরেছিল ভারত। প্রথম দিকের সব ব্যটসম্যান ব্যর্থ। খুব সহজেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড সেই রান তুলে নেয়। বিরাট কোহলি দুই ম্যাচেই টসে হেরেছিলেন, পরের দিকে শিশির থাকলে বল করা অসুবিধাজনক, এসব যুক্তি দিয়ে আর ব্যর্থতার লজ্জা ঢাকা যাচ্ছে না। কেন এই হার, কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা?

মাঠে নামার আগেই
বিরাট কোহলি কোনো রাখঢাক না করেই জানিয়েছেন, মাঠে নামার আগেই কেঁপে গিয়েছিল ভারতীয় দল। ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘ব্যাটে বা বলে আমরা একেবারেই সাহসী ছিলাম না। মাঠে নামার পরেই বোঝা যাচ্ছিল, আমাদের মধ্যে সাহসের অভাব আছে। নিউজিল্যান্ড আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। আমরা তো প্রথম থেকেই চাপে ছিলাম। ব্যাটিংয়ের সময় দ্বিধায় ভুগেছি।’ কোহলি সরাসরি কথা বলেন বলে এইভাবেই ব্যর্থতার দায় সব ক্রিকেটারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন।

এই আত্মবিশ্বাস না থাকার বিষয়টি পাকিস্তানের ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল। পরপর দুই ম্যাচে ভারতীয় দলকে মাঠে চনমনে দেখায়নি। এর জন্য সাহসের অভাবের যুক্তি দিয়েছেন কোহলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন এই অবস্থা? অনেক সময় প্রত্যাশার চাপ সামলাতে পারেন না ক্রিকেটাররা। এই ক্ষেত্রেও কি তাই হয়েছে? কোহলির জবাব, ‘প্রত্যাশা তো থাকবেই। যে ম্যাচেই আমরা নামি না কেন, এই চাপটা নিতে হবে। চাপের সাথে মানিয়ে নিতে হবে।’

দলের মধ্যে একতা
কোহলি বলেছেন, ‘দল যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে এই চাপ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আমরা গত দু’ম্যাচে এটা করতে ব্যর্থ।’

সূত্র জানাচ্ছে, কোহলির বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই দলের জনা কয়েক সিনিয়ার প্লেয়ার বোর্ডের কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন। কোহলির উদ্ধত ব্যবহার, খামখেয়ালীপনা নিয়ে। কোহলি ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন এই বিশ্বকাপের পরেই তিনি টি-টোয়েন্টি ও এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে থাকবেন না। ক্রিকেটাররা অতীতে অনেক সময়ই বলেছেন, ম্যাচ জেতার জন্য ড্রেসিং রুমের পরিবেশ ও ক্রিকেটারদের এক হয়ে থাকাটা খুবই জরুরি। কোহলির কথা থেকে কি ক্রিকেটারদের অনৈক্যের ছবি উঠে আসছে?

আইপিএল দায়ী?
ভারতীয় পেসারদের মধ্যে বুমরার উপরেই টিম সব চেয়ে বেশি নির্ভর করে। তার হাতে মারাত্মক ইয়র্কার আছে। তার বলের গতিও যথেষ্ট। তিনি বিশ্বের যেকোনো ব্যাটসম্যানকে বিপাকে ফেলতে পারেন। হারের পর বুমরার মত হলো- ‘ক্রিকেটারদের বিশ্রাম প্রয়োজন। তারা টানা ছয় মাস ধরে খেলছে। এটা একেবারেই সহজ নয়। পরিবারের সাথে সময় কাটানোও দরকার।’ নাম না করে আইপিএলের উপরেই দায় চাপিয়ে দিয়েছেন বুমরা।

বুমরা বলেছেন, ‘আমাদের সাহায্য করার জন্য বিসিসিআই যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু সূচি কী হবে সেটা তো হাতে থাকে না। জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকলে মানসিক ক্লান্তি আসতে বাধ্য।’

বুমরা জানিয়েছেন, ‘আমাদের বড় রান দরকার ছিল। সেটা করতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারাই আমরা। তবে খেলায় হার-জিত থাকে। এটাই খেলার নিয়ম।’

এখনো আশা
কোহলি জানিয়েছেন, এখনো সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। আশা আছে।

খাতায় কলমে হয়তো আছে। যদি ছোট দলগুলো নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারায়, ভারত যদি পরপর তিনটি ম্যাচে জিততে পারে, সেই সব জটিল অঙ্কের উপর নির্ভর করছে, ভারত সেমিফাইনালে যাবে কি না। তবে যেভাবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড খেলছে এবং যেভাবে ভারত হারছে, তাতে তাদের সেমিফাইনাল যাওয়ার আশা খুবই কম, প্রায় নেই বললেই চলে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments