Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামকৃচ্ছ্রসাধনের তাগিদ: বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই

কৃচ্ছ্রসাধনের তাগিদ: বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই

অর্থ বিভাগ থেকে গত ১৩ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, বরাদ্দের বাইরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। এ ছাড়া অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) অনুমোদনবিহীন নতুন কোনো প্রকল্পের জন্য টাকাও চাওয়া যাবে না।

অন্যদিকে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ব্যয় দেখানো যাবে না অন্য কোনো খাতে। সাশ্রয়ের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিয়ে প্রকল্পের সংখ্যাও কমাতে হবে। প্রয়োজনে ধীরগতির প্রকল্প থেকে অর্থ কেটে দ্রুতগতির জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে জোগান দিতে হবে।

বস্তুত পরিপত্রে মোটা দাগে চারটি নির্দেশনাসহ ৩১টি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে, যার আলোকে অর্থ বিভাগ একটি সংশোধিত বাজেট (২০২২-২৩) প্রণয়ন করবে। এ জন্য আগামী ১৯ ডিসেম্বর বৈঠকও আহ্বান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। মূলত বড় ধরনের কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বাজেট বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়; যার মধ্যে মূল্যস্ফীতি, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মূল্য বৃদ্ধিজনিত ভর্তুকির জন্য অর্থের সংস্থান উল্লেখযোগ্য।

তবে বছরের মাঝামাঝি এসে বৈশ্বিক সংকটের প্রবল অভিঘাতের মুখে পড়ে অর্থনীতি। এতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় সংকট মোকাবিলায় জুন পর্যন্ত অর্থনীতির গতি ঠিক রাখতে ব্যয় কমানোর পথ বেছে নিয়েছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগের বেঁধে দেওয়া গাইডলাইনগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান পরিস্থিতি অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব একটি সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের বাজেট পরিপত্রটি সময়োপযোগী। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অর্থ বিভাগের নির্দেশনা পুরোপুরি মানতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, কৃচ্ছ্রসাধনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোকে আরও সচেতন ও বাস্তবমুখী হতে হবে। তা না হলে এ নির্দেশনা কাজে আসবে না। মনে রাখা প্রয়োজন, ব্যয় তখনই বাড়ানো সম্ভব, যখন আয় বাড়ে।

অথচ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় খুব বেশি বাড়বে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কাজেই চাইলেও আমাদের পক্ষে অতিরিক্ত ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানোর দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে বলেছেন, যা গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।

বিশ্ব যখন করোনা মহামারির অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল, তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি; অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বাস্তবায়ন। গত আগস্টে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় উঠে এসেছিল-মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ, যা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে আশার কথা, অতীতে আমাদের অর্থনীতি নানামুখী প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এগিয়েছে। দেশের পরিশ্রমী মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। আশা করা যায়, এবারও রাখবেন। তবে এজন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments