যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিন দফা মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী জো বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী মাইক পেন্স ও ডেমোক্রেট কমলা হ্যারিসের মধ্যে হবে এক দফা বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী মৌসুমে এসব বিতর্কের দিকে দৃষ্টি থাকে মার্কিনি সহ বিশ্বের সচেতন মহলের। বলা হয়, এই মুখোমুখি বিতর্ক হলো এ সময়ের প্রধানতম রাজনৈতিক ইভেন্ট। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। মোট চার দফা বিতর্কে দৃষ্টি থাকে বিপুল সংখ্যক মানুষের। এতে মডারেটর বা সঞ্চলক হিসেবে কে থাকবেন তাও ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি হলেন ফক্স নিউজ সানডে’র উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস।

তিনি ক্লিভল্যান্ডে ২৯ শে সেপ্টেম্বর প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করবেন। দ্বিতীয় বিতর্ক হবে মিয়ামিতে। সেখানে ১৫ই অক্টোবর টাউন হল স্টাইলে বিতর্ক হবে। এতে মডারেটর থাকবেন সি-স্প্যান-এর স্টিভ স্কালি। নাশভিলে প্রেসিডেন্সিয়াল শেষ বিতর্ক হবে ২২ শে অক্টোবর। তাতে উপস্থাপক থাকবেন ক্রিশ্চেন ওয়েলকার। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্ক হবে ইউটাহ রাজ্যের সল্ট লেক সিটিতে। এই বিতর্ক হবে ৭ই অক্টোবর। এতে মডারেটর থাকবেন ইউএসএ টুডে পত্রিকার ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান সুসান পেইজ। সব বিতর্কই স্থানীয় সময় রাত ৯টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার কথা। এর মধ্যে থাকবে না কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বিরতি।

ক্রিস ওয়ালেস কে?
প্রথম বিতর্কের সঞ্চালক ক্রিস ওয়ালেস। এদিনের বিতর্ক ভাগ করা হবে ৬টি অংশে। প্রতি অংশের দৈর্ঘ্য থাকবে প্রায় ১৫ মিনিট। কি নিয়ে বিতর্ক হবে সেই টপিক নির্বাচন করবেন ক্রিস ওয়ালেস। তিনি ফক্স নিউজের দীর্ঘদিনের উপস্থাপক। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের স্মরণীয় সাক্ষাতকার নেয়ার জন্য তিনি পরিচিত হয়ে আছেন। বিতর্কে কি টপিক থাকবে তা নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগে প্রকাশ করা হবে। প্রতিটি অংশ শুরু হবে একটি প্রশ্ন দিয়ে। প্রার্থীরা প্রতিজন এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য দু’মিনিট করে সময় পাবেন।
উল্লেখ্য, ক্রিস ওয়ালেস একজন রেজিস্টার্ড ডেমোক্রেট। তিনি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের উপস্থাপক ছিলেন। ওই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন ডেমোক্রেট হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে অস্বস্তিকর ইস্যুতে প্রতিজন প্রার্থীকে চাপে ফেলেছিলেন এই উপস্থাপক। এ জন্য তিনি ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন।  সমতা রক্ষা করে বিতর্ক পরিচালনার জন্য উভয় পক্ষই তার প্রশংসা করে। তিনি বলেছিলেন, ওই বিতর্কের মডারেটর হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত সিরিয়াস। এর মাধ্যমে কোটি কোটি মার্কিনি কাকে ভোটে বেছে নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে তিনি শুধু সহায়তা করেছেন। তবে প্রেসিডেন্সির সময়ে মাঝেমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English