কোভিড টেষ্ট কেলেঙ্কারির জন্য সরকার দায়ী উল্লেখ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, এটার জন্য সরকার দায়ী। সরকারের অপরিমানদর্শীতা, চিন্তা না করে কথা বলা ও কোন বিশেষজ্ঞয়ের পরামর্শ না নেয়া, এসব ভুলের কারণে এ অবস্থা। আজ থেকে দুই মাস আগে চায়না যখন ভ্যাকসিন ট্রায়াল করতে চাইলো, আমি বললাম আজকেই করেন। তাহলে আমার দেশের লোকেরা উপকৃত হতো। তার চেয়ে লাভ হতো, আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পেতো, আমার দেশের লোকেরা শিখে নিতে পারতো।
শনিবার ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য আরটিপিসিআর পরীক্ষা কার্যক্রম বা র‌্যাপিড টেষ্টের কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, টেস্টের পাশাপাশি আমরা গবেষণায় মনোযোগী হচ্ছি। আমরা ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছি গবেষণার জন্য। আর আমরা সর্বোচ্চ কোয়ালিটি মেনটেইন করছি। বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নাম করেছে তার ওষুধ নীতির কারণে। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশে পৃথিবীতে নাম করতো যদি এন্টিবডি টেষ্টের অনুমতি দিতো। এসময় তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, আপনারা অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। টেস্টের ক্ষেত্রে ওয়ার্কার যেনো সংক্রামিত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে টেষ্ট গুলো করতে হবে। আবার স্যাম্পলের ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেজাল্ট কারেক্ট করতে হবে।
স্যাম্পল কালেকশনে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন,  এতে ভুল হলে পজেটিভ একজন মানুষ কিন্তু নেগেটিভ হতে পারে। সব রেজাল্ট ঠিক হলো কিন্তু এক জনের নামের যায়গায় আরেকজনের নাম চলে আসলো তখনও ভুল হতে পারে। সব কিছু স্বীকার করেই যতœ নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের কোভিড নিয়ে গবেষণার সুযোগ আছে। ল্যাবরেটরিতে শুধুমাত্র রুটিন টেষ্ট হবে না, গবেষণাও হবে বলে আমি আশা করছি।
অনুজীব বিজ্ঞানী ডা. বিজন কুমার শীল বলেন, জানুয়ারী মাসে যখন আমরা কাজ শুরু করি তখনই আমাদের এই ল্যাবরেটরির পরিকল্পনা ছিলো। এখন আমাদের ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে। সমস্ত মেশিনারিজ চলে আসছে। বলে রাখি, ২০০৩ সালে করোনাভাইরাসের পিসিআর টেকনিকটি সিঙ্গাপুরে আমরা তৈরি করেছিলাম। এর পরে যখন এটা হারিয়ে গেলো তার পরে আর কোন কিছু হয় নাই। পরে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস যখন আবার ফিরে এলো পিসিআরই একমাত্র টেস্ট হলো করোনাভাইরাস ডিটেক্টশনের জন্য। আমরা মূলত ¯্রােতধারার সঙ্গে আজকে মিলিত হতে যাচ্ছি।
গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, র‌্যাপিড টেষ্ট করতে বাইরের একজন রোগীকে গুনতে হবে ৩ হাজার টাকা। আর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে যাদের স্বাস্থ্য বীমা আছে তাদের দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহযোগী সংগঠন গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়োটেক লিঃ এর সার্বিক সহায়তায় একটি অত্যাধুনিক মলিকিউলার ডায়াগনোসটিক ল্যাবরেটরী স্থাপন করা হয়েছে ।
গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লায়লা পারভীন বানুর সভাপতিত্বে ও  ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. ফিরোজ আহমেদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রাষ্টি সন্ধ্যা রায় ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিটিক্যালস, অধ্যাপক ডা. বিগ্রেডিয়ার জেলারেল (অব.) মামুন মোস্তাফী, অধ্যাপক ডা. নাজিব মোহাম্মদ, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, গণস্বাস্থ্যের ল্যাবরেটরি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. বদরুল হক, প্যাথলজী বিভাগের প্রধান ডা. গোলাম মোহাম্মদ কোরেইশী, অধ্যাপক শওকত আরমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English