Monday, April 15, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামএকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মিলন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে

একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মিলন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে রাজনৈতিক ই-প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফরম পলিটিক্সম্যাটারসডটকমবিডির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

ইউএসএইড এবং বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বক্তব্য রাখেন।

বক্তাদের প্রত্যেকে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, অব্যাহতভাবে নির্বাচনকে বর্জন ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি লালন করলে গণতান্ত্রিক সমাজ হুমকির মধ্যে পড়ে। এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণ যদি ভোট দিতে না পারে, ভোটের মাধ্যমে যদি প্রতিনিধি নির্বাচন করতে না পারে, তাহলে কোনো প্রক্রিয়ারই মূল্য থাকে না। তাই প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। তা না হলে বর্তমান সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সব রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, এ দেশের কোনো দলের প্রতি তার দেশের রাগ বা অনুরাগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দলকে আগেও সমর্থন করেনি, এখনো করে না। তিনি বলেন, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সবচেয়ে জরুরি।

বলা বাহুল্য, আলোচ্য অনুষ্ঠানে বক্তারা যেসব কথা বলেছেন, তার প্রতিটিই মূল্যবান। আমরা মনে করি, অনুষ্ঠানটির বক্তব্যগুলো আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বস্তুত শুধু আলোচ্য বক্তারাই নন, এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকই আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য দেখতে চায়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, গত দুটি সাধারণ নির্বাচন নিয়ে সমাজে বিস্তর নেতিবাচক কথা চালু আছে। গত নির্বাচন কমিশনও জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সার্বিক দিক বিবেচনায় বলা যেতে পারে, আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকির মধ্যে পড়বে। তাই সরকারি দলসহ দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের উচিত হবে, পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে নির্বাচকমণ্ডলী অবাধে ভোট প্রদান করতে পারে।

বিএনপির পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের যে দাবি উঠেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সুদূরপরাহতই থেকে যাবে। আমরা বলব, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রশ্নে সরকারের দায়িত্বই মুখ্য। সরকারকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেও পালন করতে হবে যথাযথ দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি তার দেশের রাগ বা অনুরাগ নেই। তার এ কথা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণই।

অভ্যন্তরীণ কোনো সংকট থাকলে তা অভ্যন্তরীণভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বাইরের যে কোনো রাষ্ট্রই এ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করুক-এটা মোটেও কাম্য নয়। আগামী নির্বাচন বাইরের প্রভাবমুক্ত অবস্থায় অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments