Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামএকজন নাভালনি এবং অনেক নাভালনির মৃত্যু

একজন নাভালনি এবং অনেক নাভালনির মৃত্যু

মৃত্যু এক অবধারিত সত্য। ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে/চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে? আল কুরআনের ভাষায়, ‘কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত,’ সব জীবনের জন্য মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু জাগতিক বিচারে কোনো কোনো মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। একজন প্রবীণ মানুষের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। আর একজন যুবকের মৃত্যুতে প্রশ্ন ওঠে। দীর্ঘকাল রোগ ভোগের পর একজন মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তা স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যে মৃত্যু ঘটে তা মানুষ স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় না। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে, কারণে ও অকারণে যখনই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে, মানুষ মর্মাহত হয়েছে, কখনো বিদ্রোহ ও প্রতিবাদে ভাষায় অস্বাভাবিক মৃত্যুকে অস্বীকার করেছে। সভ্যতা পরম্পরায় মানুষ সুসভ্য হয়েছে। আধুনিক সভ্যতা দাবি করে, প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাসে যেমন ক্ষমতার জন্য রক্তপাতের ইতিহাস রয়েছে, আধুনিক যুগে তেমনটি আর নেই। কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ ধারাবাহিকতা অস্বীকার করে এমন সব ঘটনা ঘটছে যা বিবেককে বিচলিত না করে পারে না। এমনি একটি ঘটনা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু।

কারাবন্দী অবস্থায় রাশিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি মারা গেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। ৪৭ বছর বয়সী নাভালনি গত এক দশকে রাশিয়ায় বিরোধী নেতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের একটি কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছিল তাকে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ২০২১ সাল থেকে কারাগারে বন্দী ছিলেন নাভালনি। গত বছরের শেষ দিকে তাকে উত্তর সাইবেরিয়ার ইয়ামালো-নেনেটস অঞ্চলের কারা কলোনিতে নেয়া হয়। বন্দীদের ওপর নিষ্ঠুরতার কুখ্যাতি রয়েছে এই কারাগারের।

স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, নাভালনি শুক্রবার হাঁটাহাঁটি করার পর অসুস্থ বোধ করেন। প্রায় সাথে সাথেই তিনি জ্ঞান হারান। তখন জরুরিভাবে চিকিৎসক দল ডেকে আনা হয়। তারা নাভালনিকে ফেরানোর সব চেষ্টা করলেও তাতে কোনো ফল আসেনি। তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাভালনিকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল বিচারকের হাজিরায়। কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে বক্তব্য দেন তিনি। সে সময় তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও মজা করতে দেখা যায়। নাভালনির মা লুদমিলা নাভালনিয়া ছেলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আমি কোনো সমবেদনা শুনতে চাই না। আমরা গত ১২ (ফেব্রুয়ারি) তাকে কারাগারে দেখেছিলাম। সে প্রাণবন্ত, সুস্থ ও সুখী ছিল।’

পুতিনের সমালোচকদের বেশির ভাগই রাশিয়া ছেড়ে গেছেন। কিন্তু নাভালনি নিশ্চিত কারাবাস হবে জেনেও জার্মানিতে কয়েক মাস চিকিৎসা নিয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেশে ফেরেন। এর আগের বছর আগস্টে তার শরীরে ‘নোভিচোক’ নামে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। রাশিয়ায় এক দশকের বেশি সময় রাজপথে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাভালনি। পুতিন প্রশাসনের দুর্নীতির তথ্য নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তুলে ধরেন তিনি। কোটি কোটি মানুষ তা দেখেন এবং হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নাভালনির বিরুদ্ধে ডজনখানেকের বেশি মামলা হয়েছিল। সর্বশেষ গত আগস্টে উগ্রপন্থী সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও তাতে অর্থায়নের অভিযোগে তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর আগে জালিয়াতি, আদালত অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিন ও তার সরকারকে দায়ী করেছে দেশটির ভিন্ন মতাবলম্বী ব্যক্তি ও পশ্চিমা দেশগুলো। শান্তিতে নোবেলজয়ী রাশিয়ার নাগরিক দিমিত্রি মুরাতোভ বলেছেন, নাভালনিকে তিন বছর ধরে নির্যাতন ও যন্ত্রণা দেয়া হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেন, জীবন দিয়ে তিনি নিজের সাহসের প্রতিদান দিয়ে গেলেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, নাভালনির মৃত্যু রাশিয়ার জনগণের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বলেছেন, তারা (রুশ কর্তৃপক্ষ) যে গল্পই বলুক না কেন, রাশিয়াই এর জন্য দায়ী।

নাভালনির অস্বাভাবিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত বিশ্ব। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য- সর্বত্র এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। পুতিনের একমাত্র সক্ষম প্রতিদ্বন্দ্বী নাভালনির মৃত্যু সাময়িকভাবে হলেও বিব্রত করেছে বেপরোয়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে। বিশ্ববিবেকের চাপে পুতিনের লোকেরা এখন বানিয়ে বানিয়ে কথা বলছে। মৃত্যুর রহস্য যাতে উদঘাটিত না হয় সে জন্য বলা হচ্ছে, ‘সাডেন ডেথ সিনড্রোমে’ মারা গেছেন নাভালনি। এই মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। রুশ কর্তৃপক্ষ নাভালনির মাকে এমনটিই জানিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ নাভালনির আকস্মিক মৃত্যুর খবর প্রকাশ করার পরপরই গোটা রুশ ফেডারেশনের বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে। রাশিয়ার অন্তত ৩০টি শহরে এই বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ দমনে পুতিন সরকার নির্যাতনের নীতি গ্রহণ করেছে। কয়েক দিনে প্রায় ৪০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাভালনিকে খুন করা হয়েছে বলেও দাবি তুলেছে নাভালনির পরিবার। নাভালনির মা ৫৯ বছরের লুদমিলা ছেলের লাশের খোঁজে এক হাজার ৯০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের পেনাল কলোনিতে গিয়েছিলেন। তাকে কারা কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল।

নাভালনির মৃত্যু অস্বাভাবিক। কিন্তু এটিই নির্মম সত্য যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার দেশের সরকার অথবা সরকারপ্রধান যে এ জন্য দায়ী তা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রুশদের এ ধরনের আচরণ দীর্ঘকালের। জার সা¤্রাজ্যের শুরু থেকে স¤্রাট পুতিন পর্যন্ত এরকম অনেক মৃত্যুর ঘটনা ইতিহাসে প্রমাণিত হয়ে আছে। রুশ স¤্রাটদের জার বলা হতো। হত্যা ও নির্যাতনের জন্য তারা কুখ্যাত। সাম্যের গান গেয়ে ১৯১৭ সালে বলসেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। তবে জার আমলের অন্যায়-অত্যাচারের অবসান ঘটেনি; বরং রাজনীতির কারণে, ধর্মের কারণে ও বিবেকের স্বাধীনতার কারণে জারদের চেয়েও ভয়ঙ্কর ইতিহাস উপহার দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৮৯ সালে তাসের ঘরের মতো আকস্মিকভাবেই ভেঙে পড়ে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠিত হয় রুশ ফেডারেশন। সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্র। ইতিহাসের কোনো সময়ই যাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাস নেই তারা কিভাবে গণতন্ত্রকে ধারণ করবে? ব্যবস্থাটির নাম গণতান্ত্রিক হলেও তা জারের ঐতিহ্য, সোভিয়েতের উত্তরাধিকার ও কথিত নতুন জার পুতিনের মতো শাসক উপহার দেয়। তাদের অবস্থা আমাদের মতোই। সংবিধানে গণতন্ত্র থাকলেও ময়দানে ও শাসকদের আচরণে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই।

একজন নাভালনির মৃত্যু হয়েছে। রুশ ফেডারেশনে পুতিনের মতো নির্মম অত্যাচারীদের হাতে অনেক মৃত্যু ঘটেছে। এই সে দিনের কথা। সেখানে রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধা দলের নেতা ইয়েভগেনি প্রিগোজিনেরও রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। বিধ্বস্ত হওয়া একটি জেট বিমানের আরোহী যাত্রীদের তালিকায় ছিলেন তিনি। ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আরোহী ১০ যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছে বলে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভাড়াটে যোদ্ধাদের গ্রুপ ওয়াগনারের সাথে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, তার ব্যক্তিগত বিমানটিতে গুলি করে ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাজধানী মস্কোর উত্তর-পশ্চিমের টিভের এলাকায় বিমান বিধ্বস্তের ওই ঘটনাটি একই দিনে ঘটে যেদিন রুশ জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনকে বিমান বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। জেনারেল সুরোভিকিনের সাথে প্রিগোজিনের ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায় এবং বিদ্রোহের পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের নির্দেশে অথবা নীলনকশায় অনেক মৃত্যু ঘটেছে। দাম্ভিকতার পার্লামেন্টে মৃত্যুর ঘোষণাও দেয়া হয়েছে, আজো সে ঐতিহ্য বহাল। শুধু শাসকদের নির্দেশনায় তথাকথিত ৭ জানুয়ারির অবৈধ নির্বাচন সামনে রেখে নাভালনির মতো মৃত্যুর কথা বলব। পথে-ঘাটে রাজনৈতিক সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের কথাও বলছি না। শুধু তাদের কথাই বলছি, যারা সরকারের হেফাজতে ছিল। যাদের জীবন রক্ষার দায়িত্ব তাদের আর তারা অপবিত্রভাবে অসাংবিধানিকভাবে অস্বাভাবিকভাবে সেসব প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি শুধু গত নির্বাচনের আগের ও পরের।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বাসনা চরিতার্থ করতে গত ৭ জানুয়ারি বিরোধী দলহীন ডামি নির্বাচন নির্বিঘœ ও কণ্টকমুক্ত করার জন্য গুম-খুন-গায়েবি মামলা, হুলিয়া, গ্রেফতার-হয়রানি, নিপীড়ন-নির্যাতনের যে ভয়াবহতা চলছিল তা এখনো অব্যাহত রেখেছে ডামি সরকার।’ গত ১৭ ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, নির্বাচনের বাধা দূর করতে বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে রাখা হয়েছে। পরে জনগণকে প্রতারিত করে, পেশিশক্তির জোরে ৭ জানুয়ারি ভোটারহীন পাতানো ভুয়া নির্বাচনে ষোলকলা পূর্ণ করলেও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে থেমে নেই বিরোধী দল-মতের ওপর বহুমাত্রিক জুলুম, উৎপীড়নের অমানবিক নিষ্ঠুরতা,’ যোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, ‘কারা সেলগুলো একেকটি শ্বাসরুদ্ধকর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পরিণত করা হয়েছে। কারা হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের কারো না কারো মৃত্যুর সংবাদ আসছে প্রায়ই। গত তিন মাসে কারাগারে নির্যাতনে বিএনপির ১৩ নেতার মৃত্যু হয়েছে কারা হেফাজতে। প্রত্যেকটি মৃত্যু পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ গত বৃহস্পতিবার বিনা অপরাধে রংপুর কারাগারে বন্দী গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলামকে নির্যাতন করে বিনাচিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।

আরেক প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতের দিকে তাকানো যাক। গণমাধ্যমে উঠে আসা অতি সাম্প্রতিককালের উদাহরণ এ রকম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতা গত ২৯ অক্টোবর ২০২৩ থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এ ছাড়া ২৫ অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত জামায়াতের এক হাজার ৭৪১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। জামায়াতের অভিযোগ, রংপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি জামায়াতের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এর আগে ২৯ অক্টোবর হরতালের দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসক গোলাম কাজেম আলী (৪২) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় নিজের চেম্বারে রোগী দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। একই দিন রাত ৮টার দিকে রাজশাহী নগরীর সিটিহাট এলাকায় হোমিও চিকিৎসক এরশাদ আলীকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে-পরেও সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির ও পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুস সোবহানের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। জেলে অনুরূপ মৃত্যু ঘটে জামায়াতের সাবেক আমির প্রফেসর গোলাম আযমের। একই রকম ঘটনার শিকার হন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
দেখা যায়, রুশ ফেডারেশনের নেতা নাভালনির মৃত্যু একক নয়; গোটা পৃথিবীতে নাভালনিরা এরকম অমানবিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করছে। দেশ কাল পাত্র ভেদাভেদ হলেও ওইসব মৃত্যুর একটি অভিন্ন আদর্শ ও উদ্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। আর তা হচ্ছে মানবিকতা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র। সেখানে এবং এখানে নাভালনিদের মৃত্যু বৃথা যাবে না। সুতরাং আমাদের শপথ হোক মুক্তি অথবা মৃত্যু।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments