Sunday, December 5, 2021
spot_img
Homeকমিউনিটি সংবাদ USAএই প্রথম পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র

এই প্রথম পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র

ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চাদপসরণকারী বা পিছিয়ে পড়া গণতান্ত্রিক দেশের তালিকায় নাম উঠলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সোমবার এই তালিকা প্রকাশ করেছে স্টকহোম-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিসট্যান্স (আইআইডিইএ)।

‘গ্লোবাল স্টেট অফ ডেমোক্রেসি টু থাউজেন্ড টোয়েন্টি ওয়ান’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চলতি বছর আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমবারের মতো পশ্চাদপসরণকারী বা পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছি। কিন্তু আমাদের কাছে থাকা তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের পিছিয়ে পড়ার পর্বটি কমপক্ষে ২০১৯ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল।’ প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের ২০টি দেশ কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসর হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে মাত্র ৭টি দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। গত এক দশকে বিশ্বে পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

সংস্থাটি বিগত ৫০ বছরের গণতান্ত্রিক সূচক ব্যবহার করে তাদের এই বার্ষিক মূল্যায়ন তৈরি করেছে। ১৬০টি দেশকে তিনটি বিভাগে বিভক্ত করে এই তালিকা তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম বিভাগের নাম ‘গণতন্ত্র’, যার মধ্যে পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রও রয়েছে। দ্বিতীয় বিভাগে ‘হাইব্রিড’ সরকার। আর তৃতীয় বিভাগে রাখা হয়েছে কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থাকে।

এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বৈশ্বিকভাবে প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের বেশি মানুষ ‘পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রের’ দেশে বাস করেন। আর বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ হয় পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্র বা ‘হাইব্রিড’ অথবা কর্তৃত্ববাদী শাসনে বাস করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্র’ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়াকেও পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত বছর পিছিয়ে পড়া গণতন্ত্রের তালিকায় থাকা দুটি দেশ ইউক্রেন এবং উত্তর মেসিডোনিয়া এবার বাদ পড়েছে। তাদের অবস্থার উন্নতির পরে এই বছর তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বে ৯৮টি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল। আর রাশিয়া, মরক্কো এবং তুরস্ক সহ ২০টি ‘হাইব্রিড’ সরকার এবং ৪৭টি কর্তৃত্ববাদী শাসনের রাষ্ট্র ছিল; যার মধ্যে চীন, সউদী আরব, ইথিওপিয়া এবং ইরান রয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে গণতন্ত্রবিমুখতার বিদ্যমান নেতিবাচক প্রবণতা ‘আরো তীব্র এবং উদ্বেগজনক’ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু দেশ, বিশেষ করে হাঙ্গেরি, ভারত, ফিলিপাইন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে যা গণতান্ত্রিক নিয়ম-কানুন লঙ্ঘনের পরিমাণ বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে যেগুলো ছিল বৈষম্যমূলক, বেআইনি, অনির্দিষ্ট বা জরুরী প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগহীন। সূত্র: সিবিএস নিউজ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments