Wednesday, April 17, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিএআই যখন মেকআপম্যান

এআই যখন মেকআপম্যান

চলচ্চিত্রে অভিনেতাদের বয়স্ক বা কম বয়সী দেখানোর জন্য কি কষ্টটাই না করতে হয় মেকআপম্যানদের। আর কাজটা একই সঙ্গে সময় এবং ব্যয়সাপেক্ষও ব্যাপার বটে। তবে ডিজনির গবেষকরা ফ্র্যান বা ফেস রি-এজিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। এটির সাহায্যে চোখের পলকে অভিনেতাদের বয়স পরিবর্তন করা যাবে।

জানাচ্ছেন  আল সানি

চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন বয়সের অভিনয়ের সঙ্গে নিজের চেহারাকে মানিয়ে নিতে কত ঝামেলাটাই না পোহাতে হয়েছে অভিনয়শিল্পীদের। ক্লেনজার, টোনার, ময়েশ্চারাইজার, আরো কত কিছুর আড়ালে বদলে নিতে হয়েছে নিজের আসল চেহারাকে। অভিনয়শিল্পীদের ‘নিখুঁত লুকের’ স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে কড়া মেকআপের কোনো বিকল্পই যেন ছিল না! সময়, অর্থ, এমনকি চেহারার আসল জ্যোতিটাও অনেক সময় এই মেকআপের আড়ালে ঢাকা পড়ে যেত। তবে ডিজনি রিসার্চ স্টুডিওর গবেষকরা এবার জানালেন ভিন্ন খবর। সিনেমার পোস্ট-প্রডাকশনের সময় বাঁচাতে নতুন ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)’ টুল বানিয়েছেন তাঁরা; যার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই যেকোনো অভিনয়শিল্পীর বয়স বাড়াতে বা কমাতে পারে তাদের এই ‘ফেইস রি-এজিং নেটওয়ার্ক’ বা সংক্ষেপে ‘ফ্র্যান’। ডিজনির এই প্রযুক্তি একেবারেই নতুন তা বলা যাবে না। বছর দুই আগেও ভিডিও চিত্রে মানুষের চেহারা পাল্টানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ডিজনি। তবে আগের এআইয়ের সঙ্গে বর্তমান ফ্র্যানের বেশ কিছু পার্থক্য আছে। ফ্র্যান নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভিডিওতে পরিবর্তন নিয়ে আসে, যার কারণে প্রথম দেখায় ফ্র্যানের ভিডিওতে থাকা কারসাজি একপ্রকার ধরাই যায় না।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জের মতে, ফ্র্যানকে প্রশিক্ষণ দিতে জোড়ায় জোড়ায় বিভিন্ন বয়সের কৃত্রিম চেহারার ছবি সংগ্রহ করে নির্মিত একটি বিশাল ডাটাবেইস ব্যবহার করেছেন ডিজনির গবেষকরা। এর ফলে বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষের এক জোড়া করে ছবি সংগ্রহের ঝামেলায় পড়তে হয়নি তাঁদের। রক্ত-মাংসের তৈরি জলজ্যান্ত একজন মানুষের মুখের কোন অংশগুলোতে বয়সের ছাপ পড়ার কথা, তা প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে আঁচ করার চেষ্টা করে ফ্র্যান। তারপর ভিডিওর প্রতি ফ্রেমে অভিনয়শিল্পীর মুখের খুঁটিনাটি পাল্টে দিতে থাকে। এভাবে যেকোনো দৃশ্যে অভিনয়শিল্পীর বয়স বাড়ানো বা কমানো দুটিই করতে পারে ডিজনির ‘এআই মেকআপম্যান’!

হলিউড সিনেমাপাড়ায় এআই নির্ভর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট টুলের কাজ একেবারেই নতুন নয়। তবে এ ক্ষেত্রে ডিজনির কাজ সেরা হিসেবে বরাবরই স্বীকৃত। কয়েক বছর ধরে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউভার্সের নিক ফিউরি, হ্যাংক পিম এবং ইগো দ্য লিভিং প্ল্যানেটের মতো চরিত্রগুলোর অভিনেতাদের বয়স বাড়িয়ে-কমিয়ে দর্শকদের চমকে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে হলিউডি মেকআপ আর্টিস্টদের এতে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছে তারা। খুব দ্রুতই তাদের কাজ হারানোর সুযোগ নেই। ফ্র্যানের টুলে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো আছে। অভিনয়শিল্পীদের মুখাবয়ব প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শিশু বয়সে কিংবা শিশু বয়স থেকে প্রাপ্তবয়স্কে নিতে চাইলে কাজ করে না ফ্র্যান। বয়সের সঙ্গে চুল পাকা বা পড়ে যাওয়ার বিষয়টিও এখনো ফ্র্যানের এখতিয়ারের বাইরে। এআই টুলের কার্যক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে একটি ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে পোস্ট করেছে ডিজনি। তবে নিজেদের জাহির না করে এআই টুলের সীমাবদ্ধতার কথাও সেখানে অকপটে বলেছে তারা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments