Tuesday, July 16, 2024
spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিএআই যখন আপনার শিক্ষক

এআই যখন আপনার শিক্ষক

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাহিত্য, প্রযুক্তি, কৃষি—এমন সব বিষয়েই পুরোদস্তুর শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে পারে এআই। আর এমন শিক্ষকের শরণাপন্ন হচ্ছেন বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষার্থীরা। জানাচ্ছেন আল সানি

কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, এআই আর রোবট মিলে করে দেবে আমাদের সব কাজকর্ম। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই প্রশ্ন চলে আসে, এআই যদি আমাদের সব কাজই করে দেয় তাহলে কষ্ট করে আর পড়াশোনা করার কি দরকার? এ কথা ঠিক যে এআই ভবিষ্যতে অনেক পেশার বিলুপ্তি ঘটাবে, তবে নতুন নতুন অনেক পেশার উদ্ভাবনও ঘটবে।

এআই সঠিক কমান্ড দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার মতো দক্ষ মানুষের চাহিদাও বাড়বে ওই সময়ে। এ কারণে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করছে, যার দরুন সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা ক্রমেই হয়ে উঠছে এআইনির্ভর। কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের অ্যাসাইনমেন্ট করিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন চ্যাটজিপিটি, তবে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু বিদ্যালয় ওয়ার্কশিট ফরম্যাটিংয়ের কাজে সাহায্য করার জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহায়তার ক্ষেত্রে কাজ করছে এআই।
শিশুদের সাহায্যের লক্ষ্যে এআইনির্ভর প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী নিজেদের পড়াশোনার সহায়তায় নেয় এআই প্রগ্রামের পরামর্শ। ওয়েস্ট সাসেক্সের একটি বোর্ডিং স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কাজ করছেন এক এআই শিক্ষক। কটেসমোর স্কুলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পছন্দমতো শিক্ষক  নির্বাচনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রজারসন বলেন, ‘‌সবার মতামত নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।’বেশ কিছু স্কুল সূত্রে জানা গেছে, পাঠ্যক্রমের বাইরে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসার জন্য এআই শিক্ষকের ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের সুযোগ না থাকলে শিক্ষার্থীরা তখন এআইয়ের সাহায্য নিয়ে থাকেন। ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের স্কুল পিজ পটেজে ‘মাই ফিউচার স্কুল’ নামের একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের মনের মতো স্কুলের ডিজাইন করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সারের ডিজিটাল লার্নিং বিভাগের প্রধান ড. ক্রিস ট্রেস বলেন, ‘‌এআই ক্রমান্বয়ে উন্নত ও দ্রুতগতির হয়ে উঠছে।

ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়ের জন্য এটি আমাদের মধ্যে রাজত্ব করবে। এআইয়ের কারণে কারোর চাকরি না গেলেও যার এ বিষয়ে ধারণা রয়েছে তিনি অবশ্যই এ বিষয়ে অজ্ঞ ব্যক্তিটির জায়গা দখল করে নেবেন।’অবশ্য শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে এগিয়ে আছে খান একাডেমির সালমান খানের ‘খানমিগো’। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করে দিতে সিদ্ধহস্ত এটি। সিঙ্গাপুরের সেন্টার ফর এডুকেশনাল টেকনোলজিসের ‘কোডভেরি’  শিক্ষার্থীদের কোডিং অ্যাসাইনমেন্টের ভুল শনাক্ত করা হয় এআই দিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৫ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে কাস্টমাইজড ডিজিটাল পাঠ্যপুস্তক তৈরির পরিকল্পনা করছে। এখন দেখার বিষয় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষাদান ব্যবস্থা এআইকে কাজে লাগিয়ে কতটা এগিয়ে যেতে পারে!

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments