Friday, April 12, 2024
spot_img
Homeজাতীয়ঈদযাত্রা: ঢাকা থেকে বের হতে ভোগান্তি

ঈদযাত্রা: ঢাকা থেকে বের হতে ভোগান্তি

শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। আসন্ন কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছাড়ছেন নগরবাসী। বিগত বছরের তুলনায় এবারের    ঈদযাত্রা কিছুটা স্বস্তির হলেও ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথে রয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। অনেকেই বলছেন- বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে বাড়িফেরা মানুষের ভিড় কম। তবে নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়ছে না এসব পরিবহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসস্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ ছাড়া রাজধানীর তীব্র যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনেক ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে বিলম্বে। এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি প্ল্যাটফরম ছাড়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।

সকাল সাড়ে ১০টায় জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ার কথা। তবে কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেনটি ১৫ মিনিট দেরি করে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি ৩০ মিনিট দেরি করে স্টেশন ছাড়ে। এতে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন নারী ও শিশুরা। 

অনেকেই বলছেন, তড়িগড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় তীব্র যানজটে পড়েছেন। স্টেশনে এসে অপেক্ষা করতে হয়েছে ট্রেনের জন্য। প্ল্যাটফরমে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন থাকলেও সময়মতো ছেড়ে যায়নি। এতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ট্রেনের যাত্রীরা। মিরাজ নামের জামালপুর এক্সপ্রেসের এক যাত্রী বলেন, সড়কপথে যানজট থাকে। ভোগান্তি বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনা করে ২ দিন লাইনে দাঁড়িয়ে তারপর ট্রেনের টিকিট পেয়েছি। ৪ মাসের বাচ্চা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে রওয়ানা হয়েছি। নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর স্টেশনে আসলেও ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব করছে। এদিকে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে প্রতিটি প্ল্যাটফরমে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। এতে অসহনীয় গরম লাগছে। শিশুরা চিৎকার চেঁচামেচি করছে। পথে ভোগান্তি না থাকলেও যাত্রাপথেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এদিকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানজট দেখা যায়নি। তবে রাজধানী হতে বের হওয়ার মুখে গণপরিবহনের জট দেখা গেছে। সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল থেকে বিভিন্ন এলাকার বাস ছেড়ে গেলেও গণপরিবহন সংকটে পড়েছেন বহু যাত্রী। 

অনেকেই পাচ্ছেন না নির্ধারিত বাস। কিংবা বাসের টিকিট। সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। যাত্রীরা বলছেন- টিকিটে থাকা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেও বাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো বাস আগেই ছেড়ে গেছে কিংবা টার্মিনালে আসতে দেরি করেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন- টার্মিনালে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বাড়ছে। অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাত্রা করেছেন। এতে পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীর যানজট এড়িয়ে বাস আসতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। একই চিত্র রাজধানীর মহাখালী-উত্তরা সড়ক, কল্যাণপুর-আমিনবাজার ব্রিজ, সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুর ও পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত যানজট দেখা গেছে। পদ্মা সেতু হয়ে বরিশালগামী সামির আহমেদ নামের এক যাত্রী বলেন- সড়ক পথে বাড়ি যাচ্ছি এটা একদিকে আনন্দের। ভাবছি অল্প সময়ে বাড়ি পৌঁছাতে পারবো। পথে কোনো দুর্ভোগ হবে না। তবে ঢাকার মধ্যেই ভোগান্তি শুরু হয়েছে। 

মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশ্যে বাসে উঠলাম। বাসে পৌঁছাতে ৩ ঘণ্টা লেগে গেছে। বাস যেন চলছে না। রাজধানীর প্রতিটি সড়কে তীব্র যানজট। গাড়ির চাকা যেন ঘুরছেই না। এদিকে পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চাপ বাড়ছে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকায়। বাড়ছে পরিবহন। ঈদের সাতদিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এজন্য আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন মোটরসাইকেল চালকরাও। অনেকেই বাস-ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, কেউ আবার বাড়তি খরচ থেকে বাঁচতে মোটরসাইকেলে রওনা দিচ্ছেন। এতে ঢাকার অন্যতম প্রবেশপথগুলোতে বেড়েছে পরিবহন সংখ্যা।  এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির শেষ নেই। বিআরটি প্রকল্পের চলমান কাজের কারণে টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত কয়েক শতাধিক জায়গায় গর্ত ও খানা-খন্দে ভরা। এ পথে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। বাড়িফেরা মানুষরা বলছেন- দীর্ঘ যানযটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি আটকে থাকে।

 ঈদযাত্রায় ভোগান্তি আরও বাড়বে। পরিবহন চালকরা বলছেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ২৩ জেলার যাত্রীরা গত ৪/৫ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কে খানা-খন্দের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। টঙ্গী ব্রিজ থেকে এ দুর্ভোগের শুরু হয়। গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত পুরো সড়কে জনজীবনে নেমে আসে সীমাহীন কষ্ট। এদিকে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, মিলগেটসহ খোঁড়াখুঁড়ি ও গর্তের কারণে দুর্ভোগের সৃষ্টি হওয়া ৩৭টি স্থান চিহ্নিত করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। জানা যায়, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। ঈদযাত্রার সময় যা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। চলমান বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ লেগেই আছে। এদিকে এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের খানা-খন্দ সংস্কারে কাজ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সংস্থাটি বলছে- এবারের ঈদযাত্রা হবে যানজট মুক্ত। মহাসড়কের খানা-খন্দগুলো ১/২ দিনের মধ্যেই সংস্কার কাজ শেষ হবে। 

তবে সড়ক ও মহাসড়কে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চাপ বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের। তবে ভোগান্তি ছাড়াই ফেরি বা লঞ্চে পদ্মা পাড়ি দিতে পারছেন তারা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ফেরিঘাটে চাপ কমেছে। ঈদকে ঘিরে চাপ বাড়লেও ভোগান্তি নেই। গতকাল ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭৩০টি যানবাহন দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবহার করে নদী পার হয়েছে। আগামী কয়েকদিনেও যানবাহন বাড়বে। আশা করছি এবার বাড়িফেরা মানুষদের ভোগান্তি হবে না।  

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments