Tuesday, May 21, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার রেকর্ড

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার রেকর্ড

এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় রেকর্ড হয়েছে। গত সাত বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এ দুর্ঘটনাগুলোয় প্রাণহানি ঘটেছে ৩৯৮ জনের, আহত হয়েছেন ৭৭৪ জন।

এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে ঈদযাত্রার পূর্বাপর ১৫ দিনে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তথ্য-উপাত্ত দেখিয়ে বলছে, ২০১৬ সালে ঈদুল আজহায় ১৯৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১৪৩ জন আর ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ এবং নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২০০ থেকে ৩০০-এর কোঠায়।

এসবের বিপরীতে এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৯৮।

শুধু ঈদযাত্রায় নয়, এমন কোনো দিন পাওয়া কঠিন, যেদিন অন্তত কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটছে না। বলা বাহুল্য, সড়ক দুর্ঘটনায় কেবল প্রাণহানিই ঘটে না, এর আর্থিক ক্ষতিও বিপুল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে দেশ। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হবে যে কোনো উপায়েই। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং চালকের বেপরোয়া মনোভাব।

মহাসড়কে অপরিকল্পিত স্পিডব্রেকার বা গতিরোধকগুলোও দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের পাশে হাটবাজার বসা, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব ইত্যাদি কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে যান চলাচলের সর্বোচ্চ গতি বেঁধে দিয়ে এবং গতি পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে চালকদের ওই নির্দিষ্ট গতি মেনে চলতে বাধ্য করা হলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে বলে মনে করি আমরা।

তাছাড়া চালকদের দক্ষতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে। মহাসড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের কাজটি করতে হবে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী।

যত্রতত্র গতিরোধক নির্মাণ রোধে নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা। অভিযোগ আছে, অনেক পরিবহণ মালিক চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেন না। ক্লান্ত-শ্রান্ত চালক গাড়ি চালালে স্বভাবতই তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ ও সুপারিশ করা হলেও তা যে অরণ্যে রোদনে পর্যবসিত হচ্ছে, দেশে প্রতিদিন ঘটা সড়ক দুর্ঘটনাগুলোই এর বড় প্রমাণ।

দুর্ঘটনা রোধে আইনের প্রয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ চালক এবং সড়কে চলাচল উপযোগী ভালো মানের যানবাহন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে জনগণকেও হতে হবে সচেতন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments