Saturday, April 20, 2024
spot_img
Homeজাতীয়ইসি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন : আমীর খসরু

ইসি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন : আমীর খসরু

কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এবারের স্লোগান হাসিনার বদলে কেয়ারটেকার, ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপার। ’

আজ শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের তামাশা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, ওলামাদলের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ নেসারুল হক ও তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভোট চোর আখ্যা দিয়ে আমীর খসরু বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন আইন হচ্ছে। সেখানে দুর্নীতিবাজ, মানবাধিকার লঙ্ঘনই শুধু নয়, ভোট চোর ও তাদের সহযোগী এবং ভোট চুরি দেখেও না দেখার ভান করেছে তাদের সবার বিরুদ্ধেও আইন হচ্ছে। বাংলাদেশেও এমনটি হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। নির্বাচন কমিশন কোনো ফ্যাক্টর না। এদের নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করে কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন কমিশন হচ্ছে ভোট চোর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন। সহযোগী সংগঠন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আপনাকে আগে চোর ধরতে হবে।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশে যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে আছে, তারা হচ্ছে প্রধান চোর। সময় এসে গেছে, এই চোরদের ধরতে হবে। প্রধান চোরকে ধরতে পারলে সহযোগী চোররা এমনিতেই ধরা পড়বে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে দেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আগামী নির্বাচনে নিরপেক্ষ সরকারের ওপর বাংলাদেশের সব জনগণকে জোর দেওয়া।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে দুইটা জিনিস পরিবর্তন করতে হবে। হাসিনার বদলে কেয়ারটেকার সরকার, ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপার। এটাই এখন স্লোগান। কারণ এই দুটি পরিবর্তন করতে পারলে সব কিছুই সমাধান হবে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে বাইরের দেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। নিষেধাজ্ঞা আসার অর্থ হচ্ছে, চোর ও চোরের সহযোগীদের বিদেশিরা চিহ্নিত করেছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিরোধিতা করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, চোর যদি সরিয়ে দেন, আবার দরজা-জানালা যদি বন্ধ করতে না পারেন ও তো আবার ঢুকবে। চোরও সরাতে হবে, বাড়ি সুরক্ষার জন্য দরজা-জানালাও সুরক্ষা করতে হবে। আপনি চোর সরিয়ে ইভিএম রাখলেন তাহলেও হবে না। একসঙ্গে দুটোই করতে হবে। চোরকে ধরতে হবে, চোরের সরঞ্জাম ইভিএমও বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

উন্নয়ন উন্নয়ন করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, একদিকে ভোট চুরি, অন্যদিকে উন্নয়নের নামে বড় চুরি করছে। চুরির মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশের তহবিল খালি করে ফেলেছে। এই চুরির কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলসহ নানা প্রক্রিয়ায় মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। এতে ভোট চোর ও তাদের সহযোগীদের উন্নতি হচ্ছে।   

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, চোরদের ধরতে হবে, চোরের সহযোগীদের ধরতে হবে এবং বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। একটা কথা আছে- চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন। বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। এবার গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকারে বিশ্বাসী মানুষ থাকবে একদিকে, চোর ও তাদের সহযোগীরা থাকবে অপরদিকে। এদের সঙ্গে কিছুসংখ্যক উচ্ছিষ্টভোগী আছে। তাদেরও ধরতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments