Wednesday, May 22, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ

ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ

ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসুক

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গতকাল শুরু হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত সব দলই বঙ্গভবনে সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পাবে। উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। সংবিধানে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।’ বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোরও দাবি- সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন করা হোক। কিন্তু আইনটি প্রণীত না হওয়ায় গত দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করে ইসি গঠন করেছেন। এবার তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজনৈতিক সংলাপ।

সংলাপ শুরুর আগে এ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেছেন, ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, শক্তিশালী ও কার্যকর একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসছেন।’ দেশবাসীও আশা করে, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনে এ সংলাপ থেকে ফলপ্রসূ কিছু বেরিয়ে আসবে। তা না হলে এ সংলাপ হবে অর্থহীন এবং তা অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে। গতবার সংলাপের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করে ইসি গঠনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। আমরা জানি, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি নিরপেক্ষ ইসির বিকল্প নেই। অথচ এ ক্ষেত্রে বর্তমান ইসির ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বস্তুত নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী হয় এবং ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা তার হাতে থাকে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে বাধ্য। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারল কী পারল না, সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কোনো মাথাব্যথা থাকে না; কোনোক্রমে একটি নির্বাচনের আয়োজন করতে পারাকেই ইসি তার সাফল্য হিসাবে বিবেচনা করে। নির্বাচন কমিশনের এমন ভূমিকা কাম্য নয়। তাই আমরা চাই, চলমান সংলাপ থেকে ইসি গঠনে এমন সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসুক, যা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির মনোভাব নেতিবাচক। আমরা চাইব, এ সংলাপে বিএনপিও অংশ নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিকে জোরালো করুক। বস্তুত ইসি গঠনে একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আর এর সমাধান যেহেতু সংবিধানেই দেওয়া আছে, সেহেতু সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন ইসি গঠনের প্রক্রিয়া পরিহার করে শেষ পর্যন্ত আমাদের সংবিধানের পথেই যাওয়া উচিত। সংলাপে অংশ নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য দল সেই দাবিটি জোরেশোরে উত্থাপন করতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। আর তাই একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে নির্বাচনের সব অংশীজনকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments