শারীরিক সুস্থতা মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। এটি বান্দার প্রতি সবিশেষ অনুগ্রহ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘দুটি নিয়ামত এমন আছে, যেগুলো অবহেলার কারণে বহু মানুষ ধোঁকাপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা হলো, সুস্থতা আর অবসর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

জটিল রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচতে এবং সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে ইসলাম মুমিনদের পরিমিত খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

ইসলামে পরিমিত খাবার গ্রহণের তাগিদ

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে আদম সন্তানরা, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান কোরো এবং খাও ও পান কোরো। তবে অপচয় কোরো না। কেননা, তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

আয়াতের আলোকে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে মুসলমানের নীতি হবে মনের চাহিদায় নয়; বরং শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাবে; যাতে সে দুনিয়ার পেশাগত কার্যক্রম ও ইবাদত-বন্দেগি স্বাভাবিকভাবে করতে পারে। পক্ষান্তরে অবিশ্বাসী মনের চাহিদা পূরণে খাবার গ্রহণ করে। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘মুমিন এক পেটে খায়, আর কাফির ও মুনাফিক সাত পেটে খায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৯৪)

সুতরাং যে শারীরিক সুস্থতা চাইবে সে খাদ্য ও পানীয় দ্বারা পেট ভর্তি করবে না। মিকদাম বিন মাদিকারিব (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খানাই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। আরো বেশি ছাড়া যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খানার জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য অন্য তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৮০)

অভিজ্ঞ আলেমরা বলেন, পরিমিত খাবার শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে না; বরং হৃদয়কে বিগলিত করে, ইবাদত-বন্দেগিতে উৎসাহিত করে। আর অপরিমিত খাবার শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি হৃদয়কে শক্ত করে তোলে; ফলে ইবাদত-বন্দেগিতে অমনোযোগী হয়।

তাই খাবার গ্রহণে মুসলিমদের সতর্ক হতে হবে। রকমারি খাবারে মুগ্ধ হয়ে বেশি খাবার গ্রহণের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন লোকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা খাবে রকমারি খাবার, পান করবে রকমারি পানীয়, পরিধান করবে রকমারি পোশাক এবং তারা আবোল-তাবোল বকবে। এরাই হবে আমার উম্মতের নিকৃষ্টতম লোক।’ (সিললাতুল আহাদিসিস সহিহা, হাদিস : ৩৬৬৩)

উপকারী খাবার গ্রহণ

শারীরিক সুস্থতার অন্যতম নিয়ামক হলো উপকারী, স্বাস্থ্যকর ও বরকতময় খাবার গ্রহণ করা। কোরআন-হাদিসে কিছু খাবারকে বরকতময় ও উপকারী বলা হয়েছে। এসব খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য সবল হয়।

১. খেজুর : সালমান বিন আমির বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার (শুরু) করে। কেননা, খেজুর বরকতময় খাবার।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৫৪)

২. জায়তুন তেল : ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জায়তুন তেল খাও এবং তা মালিশ কোরো। কেননা তা বরকতময় গাছ থেকে উৎপন্ন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৫২)

৩. মধু : কোরআন ও হাদিসে বহু জায়গায় মধুকে শিফা তথা আরোগ্য লাভের কার্যকর মাধ্যম বলে ঘোষণা করেছে।

৪. কালিজিরা : প্রিয় নবী (সা.) বিভিন্নভাবে উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছে যে কালিজিরা (ঠাণ্ডাজনিত) সব রোগ থেকে আরোগ্য লাভে সহায়ক।

English