Monday, November 28, 2022
spot_img
Homeধর্মইসলামে আনুগত্যের গুরুত্ব ও সীমারেখা

ইসলামে আনুগত্যের গুরুত্ব ও সীমারেখা

ইসলামে সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো আনুগত্য। নিরঙ্কুশ আনুগত্য ছাড়া পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র কোথাও শান্তি-শৃঙ্খলা আসে না। সর্বত্রই দেখা দেয় সীমাহীন অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। অস্থির হয়ে ওঠে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব।

তাই ইসলামে ইতাআত বা আনুগত্যের গুরুত্ব যারপরনাই। আনুগত্যের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, আল্লাহর নির্দেশ মান্য করো, নির্দেশ মান্য করো রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয়, তাদের। তারপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ো, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ করো, যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম। ’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৯)

এ আয়াতে ‘উলুল আমর’ বা নেতৃস্থানীয়দের আনুগত্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘উলুল আমর’ সেই সব ব্যক্তি, যারা মুসলিমসমাজের পরিচালক। আলেম-উলামা, ন্যায়সংগত শাসক, বিচারপতি এবং সর্দার-মাতব্বরসহ নেতা-সেনাপতি সবাই উলুল আমরের মধ্যে গণ্য।

আনুগত্যের সীমারেখা

ইসলাম আনুগত্যের সীমাহীন গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তার সীমারেখাও টেনে দিয়েছে মজবুতভাবে। এসংক্রান্ত কয়েকটি নীতিমালা উল্লেখ করা হলো—

১. ইসলামবিরোধী কাজে কারো আনুগত্য নয়

আমির বা নেতার আদেশ ততক্ষণ মানা যাবে, যতক্ষণ তিনি ইসলামের সীমার ভেতর থাকেন। ইসলামবিরোধী কাজে কারো আনুগত্যের সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিজেদের নেতৃবৃন্দের কথা শোনা ও মেনে চলা মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য, তা তার পছন্দ হোক বা না হোক, যে পর্যন্ত না তাকে গুনাহ ও নাফরমানির হুকুম দেওয়া হয়। আর যখন তাকে নাফরমানির হুকুম দেওয়া হয়, তখন তার সে হুকুম শোনা ও আনুগত্য করার অবকাশ নেই। (বুখারি, হাদিস : ৭১৪৪; মুসলিম, হাদিস : ১৮৪৯)

২. আনুগত্যের মানদণ্ড দ্বিনদারি ও যোগ্যতা : আনুগত্যের প্রশ্নে ইসলাম ব্যক্তি বা বংশকে প্রাধান্য দেয়নি। প্রাধান্য দিয়েছে দ্বিনদারি, যোগ্যতা ও ন্যায়ানুগতাকে। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, ‘যদি তোমাদের নেতা হিসেবে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তোমাদের নেতৃত্ব দেয়, তাহলে তার কথা শোনো এবং আনুগত্য করো। ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৩৮)

৩. অন্ধ অনুকরণ নিষিদ্ধ : বিবেক-বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে কোনো কিছুর অন্ধ অনুকরণ ইসলামে অনুমোদিত নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তাদের বলা হয়, এসো আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে। তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যার ওপর পেয়েছি তা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট। যদিও তাদের পূর্বপুরুষরা কিছু না জানে এবং সুপথপ্রাপ্ত না হয়, তার পরও তারা তাদের অনুসরণ করবে?’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ১০৪)

আনুগত্যহীনতার কারণ : আনুগত্যহীনতার কিছু কারণ আছে। যেমন—(১)  আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। (২) আনুগত্যের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞতা। (৩) গর্ব ও অহংকার। (৪) হিংসা ও বিদ্বেষ। (৫) সিনিয়রিটি জুনিয়রিটি মনোভাব (৬)  মেজাজের ভারসাম্যহীনতা। (৭)  পদের প্রতি মোহ। (৮) দায়িত্বশীল পছন্দ না হওয়া। (৯)  দায়িত্বশীলের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক। (১০)  দায়িত্বশীলের ব্যাপারে সন্দেহ প্রবণতা। (১১)  নিজের মতামতের কোরবানি করতে না পারা। (১২) হূদয়ের বক্রতা। (১৩)  মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্ন করার প্রবণতা। (১৪)  নিজেকে অন্যের চেয়ে যোগ্য মনে করা। (১৫)  সুযোগ সন্ধানী/ জাগতিক লাভের মনোভাব, ইত্যাদি।

     লেখক : ইমাম, খতিব ও মুহাদ্দিস

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments