Thursday, June 20, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরান নাকি ইসরাইল কার বেশি সামরিক শক্তি

ইরান নাকি ইসরাইল কার বেশি সামরিক শক্তি

ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। ইসরাইলে তারা কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা জাহেদি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হামলা করতে মরিয়া। তবে ছেড়ে কথা বলবে না ইসরাইলও। তারাও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক যোদ্ধা ইউনিটগুলোর সব ছুটি বাতিল করেছে। বন্ধ করে দিয়েছে জিপিএস। যেকোনো সময় ইরান হামলা চালাতে পারে এই আতঙ্কে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কন্স্যুলেটে  সোমবার ইসরাইলের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশ শাখার শীর্ষ জেনারেলসহ ১৩ জন নিহত হন। এ হামলার জবাব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

কন্স্যুলেটে হামলায় আল-কুদস বাহিনীর দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদি নিহত হন। এ হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদোল্লাহিয়ান বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘তার মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন’। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ফাওয়াজ গার্জেস বলেছেন, ইরান ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে দেখাতেই এই উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে।

লেবানন ও সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় এবং অস্ত্র ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে এই বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গার্জেস বলেন, দামেস্কের কন্স্যুলেটে হামলার জবাব দেয়ার সুযোগ ও সংখ্যা বিবেচনায় ইরানের সামনে বিকল্প সীমিত পর্যায়ে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক আলি সদরজাদেহ বলেন, ‘সামরিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরাইলের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে যাওয়ার সামর্থ্য ইরানের নেই। তবে অভ্যন্তরীণ চাপ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের কাছে নিজের সুনাম ধরে রাখতে দেশটিকে কিছু একটা জবাব দিতেই হবে।’ গার্জেস বলেন, ইরান সম্ভবত সরাসরি ইসরাইলের ওপর হামলা চালাবে না, যদিও ইসরাইল প্রকৃত অর্থেই ইরানকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে এবং আপাতদৃষ্টিতে ধরাশায়ী করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরান সম্ভবত ‘কৌশলগত ধৈর্য’ দেখিয়ে যাবে। কারণ, দেশটির এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের প্রতি জোর দিচ্ছে। সেটা হলো পারমাণবিক বোমা তৈরি। সদরজাদেহ মনে করেন, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর চেয়ে ইরান সম্ভবত ‘প্রতীকী’ জবাব দিতে পারে। ইসরাইল ও ইরানের সামরিক সক্ষমতার তুলনা: অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির দিক থেকে ইসরাইল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানও সামরিক প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়েছে।

সামরিক সক্ষমতায় কোন দেশ কোন অবস্থানে রয়েছে, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরে ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার’ ওয়েবসাইট। ফায়ার পাওয়ার সূচকে ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ১৪তম আর ইসরাইলের অবস্থান ১৭তম। ওয়েবসাইটটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী ইরান ও ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরা হলো: ইরানের আছে ৬ লাখ ১০ হাজার সেনা। ইসরাইলের আছে ১ লাখ ৭০ হাজার সেনা। ইরানের আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সেনা। অন্যদিকে ইসরাইলের আছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার রিজার্ভ সেনা। আধাসামরিক বাহিনী ইরানের আছে  ২ লাখ ২০ হাজার। ইসরাইলের আছে ৩৫ হাজার। ইরানের মোট সামরিক উড়োজাহাজ আছে ৫৫১টি। ইসরাইলের আছে ৬১২টি। ইরানের কাছে আছে ১১৬টি যুদ্ধবিমান। ইসরাইলের আছে ২৪১টি যুদ্ধবিমান। হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ইরানের কাছে আছে ২৩টি। ইসরাইলের আছে ৩৯টি।

ইরানের আছে ৮৬টি পরিবহন উড়োজাহাজ। ইসরাইলের আছে ১২টি। ইরানের আছে ১২৯টি হেলিকপ্টার। ইসরাইলের আছে ১৪৬টি। হামলায় ব্যবহৃত হেলিকপ্টার ইরানের কাছে আছে ১৩টি। ইসরাইলের আছে ৪৮টি। ট্যাংক আছে ইরানের কাছে এক হাজার ৯৯৬টি। ইসরাইলের আছে এক হাজার ৩৭০টি। ইরানের কাছে সাঁজোয়া যান আছে ৬৫ হাজার ৭৬৫টি। ইসরাইলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। ইরানের কাছে যুদ্ধজাহাজ আছে ১০১টি। ইসরাইলের আছে ৬৭টি। ইরানের কাছে সাবমেরিন আছে ১৯টি। ইসরাইলের আছে ৫টি।  ইরান ও ইসরাইলের রয়েছে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। বিশেষ করে ইসরাইলে ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য ঈর্ষণীয়। এ ছাড়া দেশ দুটির হাতে রয়েছে বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলার কাজে ব্যবহার করা যায় এমন বহু ড্রোন। ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকলেও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলে না দেশটি। এসব বিষয় গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্যে উল্লেখ নেই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments