Friday, May 24, 2024
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামইভিএমে ভোটগ্রহণ: জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল বিষয়

ইভিএমে ভোটগ্রহণ: জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠাই মূল বিষয়

ইউনিয়ন পরিষদের ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচনেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া আঙুলের ছাপ না মেলায় অনেকে ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে নির্বাচনে ভোট পড়েছে কম। এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইভিএমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি মন্থর হয়ে পড়ায় এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম বিড়ম্বনার কারণে কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। স্পষ্টতই এসব ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে আমাদের কাছে। বিশেষজ্ঞরাও তুলেছেন এ অভিযোগ। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সাধারণ নির্বাচন আসার আগেই ইভিএমের ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। শতভাগ কার্যকারিতা ও সুষ্ঠু ভোট গণনা নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি আমরা।

বস্তুত দেশে যেসব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কমবেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। যারা বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এসব ইভিএম এনেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। ভোটগ্রহণে ইভিএম পদ্ধতি যে ত্রুটিমুক্ত নয়, তা বিভিন্ন দেশে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে অনেক দেশে ইভিএমে ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যে, ভোটপ্রদানের সঙ্গে সঙ্গে একটি কাগজের স্লিপ বেরিয়ে আসে এবং সেটি ব্যালট বাক্সে ফেলা হয়। অর্থাৎ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য দুই ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। আবার অনেক দেশ ইভিএম পদ্ধতিতে যাওয়ার পর আবার তা থেকে সরে যাওয়ার কথাও ভাবছে বলে তথ্য রয়েছে।

মোট কথা, ইভিএম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এটা ঠিক, বিশ্ব প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে চলেছে। সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। নির্বাচনেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরিও বটে। এজন্য এরই মধ্যে ভোটারদের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ভোটারদের আস্থা ফেরানো। ইভিএমের মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপি করার সুযোগ আছে বলে মনে করেন অনেক ভোটার। কাজেই দেশে ব্যবহার করা ইভিএম যে ত্রুটিপূর্ণ নয়, ভোটারদের মধ্যে সেই বিশ্বাস জন্মানোর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। জনগণ যেন মনে না করে, নির্বাচনে ইভিএম তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য পছন্দের প্রার্থীকে দেওয়া ভোট মেশিনের পাশাপাশি ছাপা কাগজেও যাতে সংরক্ষিত হয় এবং ভোটদাতা তার প্রমাণ পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। সব মিলে এ ক্ষেত্রে একটি চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার স্বার্থেই তা প্রয়োজন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments