Wednesday, December 8, 2021
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইথিওপিয়ার টিগ্রেতে সব পক্ষই যুদ্ধাপরাধ করেছে : জাতিসংঘ

ইথিওপিয়ার টিগ্রেতে সব পক্ষই যুদ্ধাপরাধ করেছে : জাতিসংঘ

জাতিসংঘ ও ইথিওপিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক তদন্ত কমিটি আফ্রিকার দেশটির উত্তরাঞ্চলের টিগ্রে প্রদেশে বছরের পর বছর চলে আসা গৃহযুদ্ধে সব পক্ষকেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।  জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ও ইথিওপিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যৌথ তদন্ত কমিটি গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত টিগ্রের গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আজ বুধবার যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

টিগ্রের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী টিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) গত সোমবার ঘোষণা দিয়েছে, ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা দখল করে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে ক্ষমতাচ্যুত করবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইথিওপিয়া।  গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটির উত্তরাঞ্চলে অস্থিরতা চলছে সেই ১৯৬১ সাল থেকে। ইথিওপিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হতে সেপ্টেম্বর ১৯৬১ সাল থেকে মে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লড়াই করে এরিত্রিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ইতালির ঔপনেবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পরে ১৯৪৭ সালে এরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ইথিওপিয়ার রাজা শাসন দাবি করে। 

১৯৯৩ সালে এরিত্রিয়া স্বাধীন হলেও ইথিওপিয়ার সঙ্গে সংঘাত বন্ধ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতে লাখো লাখো মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। দুই দেশেই দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভিক্ষ। সেই যুদ্ধে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী, টিপিএলএফ, আমহারা ফোর্স ও এরিত্রিয়ার সেনাবাহিনী- সব পক্ষকেই গণহত্যা ও গণধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করেছে যৌথ কমিটি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিচেল ব্যাচেলেট বলেন, ‘টিগ্রেতে যুদ্ধ চলছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, শরণার্থী আইন, যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আইন সবকিছু চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এটা যুদ্ধাপরাধের সামিল।’ এরিত্রিয়ার সেনাবাহিনী সবচেয়ে বেশি যুদ্ধাপরাধ করেছে। এরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়ার যুদ্ধ চলাকালে টিগ্রে প্রদেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী এরিত্রিয়া নাগরিকদের আবারও দেশে যেতে তারা ‘জোর করছে’ বলে অভিযোগ এসেছে। এ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক্সম এলাকায় ১০০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। 

ইথিওপিয়া সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, টিগ্রের বিভিন্ন এলাকার বাড়ি থেকে সত্তর জন বেসামরিক লোককে ধরে এনে হত্যা করেছে তারা।  আর টিপিএলএফ ফ্রন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা আমহারা ফ্রন্ট, ইথিওপিয়া ও এরিত্রিয়া সেনাদের অত্যাচারের বদলা নিতে তাদের সমর্থকদের হত্যা করেছে।  টিগ্রেতে ২৬৯ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে গণধর্ষণ ও নিরীহ লোকদের অঙ্গচ্ছেদের বিবরণ এসেছে। এছাড়াও অভিযোগ এসেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠালেও তা বিতরণে বাধা দিয়েছে তারা।  

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ জাতিসংঘ ও ইথিওপিয়ার মানবাধিকার কমিশনের যৌথ প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন।  তিনি বলেছেন, প্রতিবেদনে মারাত্মক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন গণহত্যার দায়ে তো আর সরকারকে দোষারোপ করছে না। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যেসব মারাত্মক অভিযোগ এসেছে, তা তদন্ত করতে নাগরিক ব্যক্তিত্ব ও সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন।

এদিকে এরিত্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সালেহ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।  টিপিএলএফ ও আমহারা ফোর্সের নেতারাও এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments