Sunday, November 27, 2022
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা

ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা বেড়েই চলেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সহিংসতা, জালভোট, কেন্দ্র দখলসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে তৃতীয় ধাপে ৯৮৬ ইউনিয়ন পরিষদ এবং নয়টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয়েছে রোববার।

ভোট চলাকালে নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জে হামলা-সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। কেবল ঠাকুরগাঁওয়েই নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হয়েছেন তিনজন। তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে কোনো কোনো জায়গায় সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোসহ আরও অনেক ধরনের বেআইনি কাণ্ড ঘটানো হয়েছে এ নির্বাচনে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছুটা উত্তেজনা বরাবরই থাকে। তবে এবার সহিংসতা যে পর্যায়ে চলে গেছে, তা চিন্তার বিষয়। জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনি সহিংসতায় এক বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপে ২০ জন এলাকাবাসী আহত হয়েছেন। এদিকে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও মডেল হিসাবে উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কিছু কেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষ্ক্রিয়তাকেই প্রথমত দায়ী করছেন। তাদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত, বিশৃঙ্খলা ও হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটছে, তার দায় ইসি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনি মাঠে দলীয়ভাবে বিএনপি না থাকায় অধিকাংশ স্থানেই রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। তারা নিজেরাই জড়িয়ে পড়ছেন সংঘাতে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারছে না বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক, এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশা তখনই পূরণ হতে পারে, যখন রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনের অন্য অংশীজন তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যে ধারা চলমান, এর প্রভাবেও নির্বাচনি সহিংসতা বাড়ছে। কাজেই সমাজে সার্বিকভাবে উচ্চ নৈতিকতা ও উন্নত মূল্যবোধের চর্চা না বাড়লে কোনো নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, এ বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments