Tuesday, February 27, 2024
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইউক্রেন ইস্যুতে যুদ্ধজ্বর

ইউক্রেন ইস্যুতে যুদ্ধজ্বর

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাশিয়া ও ইউরোপিয়ান নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করতে চায় ইউক্রেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্র কুলেবা বলেছেন, তাদের সীমান্তে কেন এত বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার আহ্বান এড়িয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। তাই রাশিয়ার পরিকল্পনা কি, সে সম্পর্কে স্বচ্ছ একটি ধারণা পাওয়ার জন্য পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। শুধু ইউক্রেন নয়, ওই অঞ্চল তথা পুরো বিশ্বকে আরেকটি যুদ্ধজ্বর আক্রান্ত করেছে। সবার মধ্যেই দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। করোনা মহামারির এই সময়ে যদি ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, তাতে অপূরণীয় ক্ষতি হবে বিশ্বের। বিশেষ করে ইউরোপজুড়ে সেই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে জার্মান সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে। এমনকি সেই যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেও রূপ নিতে পারে।

ইউক্রেন সীমান্তে কমপক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার সেনার সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া।তারা রয়েছে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে। এমন অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো সতর্ক করেছে। বলেছে, সামরিক হামলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে রাশিয়া। যেকোন মুহূর্তে তারা হামলা চালাতে পারে ইউক্রেনে। এ জন্য ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত প্রায় দুই ডজন দেশের দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন সহ বহু দেশ তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইউক্রেন ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। সিবিএস নিউজ বলেছে, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কিয়েভ দূতাবাস থেকে সব সদস্যকে প্রত্যাহার করে অন্যত্র নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, যেকোনো সময় আকাশপথে ইউক্রেনে বোমা হামলা চালাতে পারে মস্কো।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্র কুলেবা শুক্রবার বলেছেন, ভিয়েনা ডকুমেন্টের আইনের অধীনে রাশিয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। ভিয়েনা ডকুমেন্ট হলো এমন একটি নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি, যা অনুমোদন করেছে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই)। এর সদস্য রাশিয়াও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্র কুলেবা বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমনে এবং সবার জন্য নিরাপত্তাকে সমৃদ্ধ করার জন্য রাশিয়াকে তার সামরিক স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।

ওদিকে আতঙ্কের বিষয়ে সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে রাশিয়ার আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেখতে পাননি তিনি। রোববার প্রায় এক ঘন্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি।

এ সম্পর্কে হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জবাবে ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জো বাইডেনকে ইউক্রেন সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হ্উাজ থেকে এই আমন্ত্রণের বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে জো বাইডেনের এক ঘন্টা কথা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments