Tuesday, December 6, 2022
spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইউক্রেইন প্রেক্ষাপটে সমর বিদ্যায় পরিবর্তন আনছে চীন

ইউক্রেইন প্রেক্ষাপটে সমর বিদ্যায় পরিবর্তন আনছে চীন

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আরও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা লাভ এবং পিপলস লিবারেশন আর্মিকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলতে চীন সামরিক বিদ্যায় স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের অধ্যয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে।
“স্নাতকোত্তরে সামরিক শিক্ষার সংস্কার ও উন্নয়ন ত্বরান্বিতের বিষয়ে মতামত’ শীর্ষক নথিতে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন সামরিক কর্মকর্তাদের উন্নত প্রযুক্তি এবং যুদ্ধ কৌশলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
ইকোনোমিকস টাইমস জানিয়েছে, একই সময়ে যখন বিশ্বের নজর রাশিয়া-ইউক্রেইনের দিকে তখন বেইজিং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীন লিয়াওনিং বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং সাতটি এসকর্ট জাহাজকে ২ মে থেকে মিয়াকো উপকূলে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠিয়েছে, যেখানে পিএলএ নৌবাহিনী অনুশীলন করেছে এবং ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জের কাছে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ অপারেশনে রয়েছে।
৩০ মে বেশ কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান স্বয়ংসম্পূর্ণতা ইউক্রেন সংঘাত এবং রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদনের উপর নিষেধাজ্ঞার যেকোনো প্রভাব কমিয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন দেশীয়ভাবে তাদের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন করে রাশিয়ান অস্ত্রের উপর নির্ভরতা কমাতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে।
ইউরেশিয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদনে ১৭ মে চায়না অ্যারোস্পেস স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের একটি সম্মেলনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত পিএলএর বিমান বাহিনীর বহরে প্রভাব ফেলবে; কারণ রাশিয়া পরিষেবা দিতে বা ইঞ্জিন সরবরাহ করতে সক্ষম হবে না।
জেট ইঞ্জিন উৎপাদনে চীন পিছিয়ে আছে। কার্যক্ষমতার দিক থেকে দেশীয় ইঞ্জিনগুলো এখনও রাশিয়ান ইঞ্জিনগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে।
চলমান সংঘাত রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয়কেই সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের ক্ষেত্রে সাইবার-আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
জানা গেছে, চীনের হ্যাকাররা এই দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগিয়েছিল। সামরিক তথ্য পাওয়ার জন্য রাশিয়ান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সাইবার-আক্রমণ চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েল-আমেরিকান সাইবার-নিরাপত্তা সংস্থা ‘চেক পয়েন্ট’ বলেছে, চীনের হ্যাকাররা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ডেটা চুরির চেষ্টা করেছিল, যা রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পরও অব্যাহত ছিল।
প্রতিবেদনটি রাশিয়ার ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য চীনের কারসাজির নতুন প্রমাণ সরবরাহ করে। রাশিয়াকে স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তিগত তথ্য অর্জনের লক্ষ্য হিসাবে দেখে থাকে বেইজিং।
চীনের হ্যাকাররা ইউক্রেইনীয় সংস্থাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিন্তু আক্রমণগুলো ইউক্রেন বা রাশিয়ার পক্ষে সংঘাতকে প্রভাবিত করতে পারে এমন বিশৃঙ্খলা বা বিঘ্ন ঘটানোর পরিবর্তে তথ্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সংগ্রহের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
চীনের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির কথা উল্লেখ করে ইউএস জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি সম্প্রতি সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেছেন, চীন থেকে হুমকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব ‘রোবট ট্যাঙ্ক এবং এআই অস্ত্র’ নিয়ে বিশ্ব যুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে। ইউএস মিলিটারি একাডেমিতে স্নাতক ক্যাডেটদের বলেন, একটি আন্তর্জাতিক সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে কারণ চীন বর্তমান নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments