Saturday, December 3, 2022
spot_img
Homeধর্মআসেরীয় সভ্যতা ও ইউনুস (আ.)

আসেরীয় সভ্যতা ও ইউনুস (আ.)

ইউনুস (আ.)-এর কথা পবিত্র কোরআনে ছয়টি সুরার ১৮টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। কোরআনের চার জায়গায় তাঁর নাম ‘ইউনুস’ বলা হয়েছে। আর সুরা আম্বিয়ার ৮৭ নম্বর আয়াতে তাঁকে ‘জুন-নুন’ ও সুরা কলমের ৪৮ নম্বর আয়াতে তাঁকে ‘সাহেবুল হুত’ বলা হয়েছে। ‘নুন’ ও ‘হুত’ উভয়ের অর্থ মাছ। জুন-নুন ও সাহেবুল হুত অর্থ মাছওয়ালা। একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই নামে পরিচিত হন।

ইউনুস (আ.) বর্তমান ইরাকের মসুল নগরীর নিকটবর্তী ‘নিনাওয়া’ জনপদের অধিবাসীদের প্রতি প্রেরিত হন। তিনি তাদের তাওহিদের দাওয়াত দেন এবং ঈমানের আহ্বান জানান। কিন্তু তারা তাঁর প্রতি অবাধ্যতা প্রদর্শন করে। বারবার দাওয়াত দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করে চলে যান। যাওয়ার আগে তিনি নির্দিষ্ট তারিখে আজাব আসার ঘোষণা দেন। এরই মধ্যে তাঁর জাতির ওপর আজাব নাজিল হওয়ার পূর্বাভাস দেখা দেয়, যদিও তখনো আজাব আসেনি। এ সময় জনপদবাসী ভাবতে শুরু করে, ইউনুস (আ.) অবশ্যই আল্লাহর নবী। আর নবী কখনো মিথ্যা বলেন না। তাই ইউনুস (আ.)-এর জাতি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দ্রুত কুফর ও শিরক থেকে তাওবা করে। জনপদের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা গবাদি পশুসহ সব কিছু নিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা শিশু ও গবাদি পশুগুলো পৃথক করে দেয়। তারপর তারা আল্লাহর দরবারে কায়মনোচিত্তে কান্নাকাটি শুরু করে। তারা দৃঢ়ভাবে তাওবা করে। আসন্ন আজাব থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাদের ওপর থেকে আজাব উঠিয়ে নেন।

নিনাওয়া বা নিনেভা একটি অতি প্রাচীন শহরের নাম, যার অবস্থান বর্তমান পৃথিবীর মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। এর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে বর্তমান ইরাকের সমৃদ্ধিশালী মসুল নগরীর উল্টো দিকে টাইগ্রিস নদীর উত্তর পারে নিনেভা নগরীর অবস্থান ছিল। বর্তমানে এখানে দুটি মাটির টিলা আছে। এর একটি টিলাকে ‘ইউনুস নবীর কবর’ বলে অভিহিত করা হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এখনো এই প্রাচীন শহরটিকে সম্পূর্ণরূপে আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে এ কথা প্রমাণিত যে এখানে প্রাচীন ‘সুমেরাই’ শহর অবস্থিত ছিল। সম্ভবত তা ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ শতাব্দীরও আগে। এই শহরটি ছিল তখনকার আসেরীয় রাজাদের রাজধানী। আসেরিয়ানদের প্রথম সম্রাট প্রথম সালমানেসার খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ শতাব্দীতে রাজত্ব করেন। সে সময় তিনি ছিলেন পশ্চিম এশিয়ার প্রধান শক্তিশালী রাজা। সালমানেসারের সময় বেবিলন আসেরিয়ানদের অধীন রাজ্যে পরিণত হয়। দ্বিতীয় পরাক্রমশালী আসেরিয়ান নৃপতি রাজত্ব করেন খ্রিস্টপূর্ব ৭৪৫ শতাব্দীতে। এ সময় পশ্চিম এশিয়ায় আসেরিয়ানরা আবার প্রধান রাজশক্তিরূপে আবির্ভূত হয়। এই রাজার নাম ছিল সেনাচোরিব (খ্রিস্টপূর্ব ৭০৫-৬৮১)

তিনি তাঁর জনহিতকর কাজের মাধ্যমে শহরটিকে সমৃদ্ধ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন। নিজেদের পাপের ফলে আসেরিয়ানদের সমৃদ্ধ শহর ও সভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর শাস্তি শুরু হওয়ার আগেই তারা অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। ফলে দ্বিতীয় সেনাচোরিব সম্রাটের সুবর্ণ যুগের সূত্রপাত হয়। আসেরিয়ানদের এই উন্নত সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ শতাব্দীতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments