Wednesday, November 30, 2022
spot_img
Homeনির্বাচিত কলামআর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সামর্থ্য অর্জনে উদ্যোগ নিতে হবে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সামর্থ্য অর্জনে উদ্যোগ নিতে হবে

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এখন বহুল প্রচলিত একটি বিষয়। কিন্তু আমরা অধিকাংশই এর ব্যাপকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মোটেই গভীরে যেতে চাই না। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় একটি চিন্তার বিষয়। বর্তমান পৃথিবীতে বৃহৎ ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে সকল ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব এবং পার্থক্য নির্ধারিত হচ্ছে অও এর সামর্থ্যের ভিত্তিতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাৎক্ষণিক উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত ২ অক্টোবর ২০২১ তারিখে দক্ষিণ চীন সাগরে পারমাণবিক শক্তিচালিত একটি অত্যাধুনিক মার্কিন সাবমেরিন অজানা বস্তুর সাথে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৫ জন নাবিক আহত হয়েছে এই মর্মে বিবৃতি প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই অজানা বস্তুতত্ত্ব বিশ্বখ্যাত অধিকাংশ নৌবিশেষজ্ঞ মানতে নারাজ। কারণ একটি সাবমেরিন সমুদ্রের পানির নিচে যে লেভেলে চলে, সে লেভেলে সামুদ্রিক পর্বত ব্যতীত অজানা কিছু থাকার কোন সম্ভাবনা খুবই কম এবং আধুনিক সাবমেরিন হতে সব কিছু অতি সহজেই অনেক দূর হতে শনাক্ত করা যায়। একমাত্র নিয়ন্ত্রণের বাইরে দ্রুতগতির কারণে সাবমেরিন সামুদ্রিক পর্বতে ধাক্কা খেতে পারে। যেমনটা দক্ষিণ চীন সাগরের তলদেশে মার্কিন সাবমেরিনের অজানা বস্তুতে ধাক্কা খাওয়া সংক্রান্ত বিবিসি রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে সাবেক ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান এ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ টুইট করেছেন, ‘সর্বশেষ ২০০৫ সালে একটি মার্কিন সাবমেরিন সামুদ্রিক পর্বতে ধাক্কা খেয়েছিল, কিন্তু সাবমেরিন অন্য কিছুতে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা খুবই দুর্লভ।’ অধিকাংশ নৌবিশেষজ্ঞ মনে করেন AI সমৃদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন সাবমেরিনে হামলা চালানো হয়েছে, যেটা মার্কিন অত্যাধুনিক সাবমেরিন পূর্ব থেকে শনাক্ত করতে পারেনি।

চলমান পরিস্থিতির আলোকে বলতে গেলে নিঃসন্দেহে নিকট ভবিষ্যতে পুরো মানব সভ্যতা পরিচালিত হবে AI নির্ভর হিসেবে, এবং সেই দিন অতো বেশি দূরে নয়, হয়তো সর্বোচ্চ ২০৩০ সাল হতে কয়েক বছর এদিক-ওদিক। অচিরেই কোন দেশের অখণ্ডতা ও একচুয়াল বা বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আবির্ভূত হবে ‘ভার্চুয়াল সার্বভৌমত্ব’। এই বিষয়ে এখনই সচেতন না হলে এবং বেশি দেরী হয়ে গেলে জাতির চিন্তা-চেতনার মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে ফেসবুক, টিকটক, গুগলসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও প্রযুক্তি উন্নত দেশসমূহের হাতে।

একাডেমিক সংজ্ঞা বাদ দিয়ে যদি সবাই বুঝার মতো সহজভাবে বলি, ‘অও হলো মূলতঃ শক্তিশালী কম্পিউটার ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে জটিল এবং শ্রম ও সময় সাপেক্ষ কোন কাজকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে নির্ভুলভাবে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা।’ অত্যন্ত স্বল্প সময়ে দৃশ্যমান উপলব্ধি, ভাষাগত উপলব্ধি, স্বয়ংক্রিয় অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগৃহীত তথ্যের যান্ত্রিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ভুলতম সিদ্ধান্ত প্রদান ও গ্রহণ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভুল কার্যসম্পাদন ইত্যাদি অও সম্পর্কিত বিষয়াবলি এখন অজান্তেই আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এটি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি প্রক্রিয়া। আমরা নিয়মিত বিরতিতে আমাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের অ্যাপস ও অপারেটিং সিস্টেমসমূহ আপডেট দিয়ে চলেছি, কিন্তু চায়নার হুয়াওয়ে কেন ‘হারমনি ওএস’ তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন টিকটক নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন এবং এর গভীরের আসল কারণ কী- জানার চেষ্টা করতে অধিকাংশই হয়তো অনিচ্ছুক। শুধুমাত্র প্রকৌশল বিদ্যায় অধ্যয়নরত ছাত্র ও শিক্ষকদের অও নিয়ে সচেতনতা এবং গবেষণা কখনোই জাতির জন্য যথেষ্ট হবে না।
AI যুগের এই প্রারম্ভিককালে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে আমাদের তথ্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ মাথায় রেখে অও সমৃদ্ধ প্রযুক্তির গবেষণা এবং পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে এগিয়ে না আসলে মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্য পুরো দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র অনেকটা একই। বর্তমান বিশ্বের ভার্চুয়াল জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইও ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও ভারত কিন্তু মোটেই অও সামর্থে প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে একটি নয়। সামরিক, নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, ই-কমার্স, ই-ব্যাংকিং, প্রাকৃতিক গবেষণা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও সকল ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ আধুনিক মানব সভ্যতার প্রতিটি ক্ষেত্রে অও অভাবনীয় গতি সঞ্চার এবং অগ্রগতি আনয়ন করছে। AI কোনো প্রযুক্তি নয়, AI হলো প্রযুক্তির শক্তি ও সামর্থ্য বৃদ্ধিকারী।
একবিংশ শতাব্দীতে বহু দেশ অও সক্ষমতা উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করলেও মূলতঃ বিশেষভাবে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইসরাইল। যুক্তরাজ্য, কানাডা, রাশিয়া, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর নাম আসবে এই প্রথম তিনটি দেশের পরেই। শুধুমাত্র সামরিকভাবে AI সমৃদ্ধ প্রযুক্তির মাপকাঠিতে বিচার করলে তুরস্ক এবং ইরানের অবস্থানও নির্ধারিত হবে প্রথম সারির AI সক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হিসেবে। এছাড়া পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর কোরিয়া, সৌদি আরব, ইউএই, স্পেন, বেলারুশ প্রভৃতি দেশসহ সর্বমোট ২৯টি দেশের আনম্যানড কম্ব্যাট এরিয়াল ভেহিক্যাল (UCAV) তৈরির সক্ষমতা আছে বলে ধরে নেওয়া হয়, এর মধ্যে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের নিজস্বভাবে তৈরীকৃত টঈঅঠ এখনো অপারেশনাল পর্যায়ে যেতে পারেনি। অও প্রযুক্তি সম্পন্ন দেশের সংখ্যা যা হোক না কেন, প্রযুক্তির উৎস, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রণাংশ ও ইঞ্জিন সরবরাহকারী দেশগুলো হলো মূলত চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও কানাডার মতো শিল্পোন্নত দেশ। তুরস্কের Bayraktar TB2 বিশ্ব অস্ত্র বাজারে আগমনের পর হতে বিশ্বে টঈঅঠ অধিকারী দেশের সংখ্যা এখন প্রায় ৪০ টির উপরে। এর পাশাপাশি প্রায় ৭০টি দেশের নিকট নিজস্ব আনম্যানেড অ্যারিয়াল ভেহিক্যাল (UAV) প্রযুক্তি রয়েছে বলে ধারণা করা হয় এবং এই সংখ্যা অতি দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। ২০১১-১৫ সময়কালের মধ্যে চীনে অও সমৃদ্ধ প্রযুক্তির উপর ৪১০০০ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, উক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২৫০০০। বিশ্বব্যাপী অও সমৃদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবসার মূল্যমানে চীন এগিয়ে আছে এবং AI প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত কোম্পানির সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। বিশ্বে AI সমৃদ্ধ প্রযুক্তির উন্নয়নে নিয়োগযোগ্য জনবলের সংখ্যার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে অবস্থানে করছে। তবে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে নিজের দক্ষ এবং মেধাবী জনশক্তি দেশে ধরে রেখে কাজে লাগানো অতীতের ন্যায় এখনো ভারতের জন্য অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ।
অন্যসব ক্ষেত্রের চেয়ে সামরিক ক্ষেত্রে AI সমৃদ্ধ প্রযুক্তির বিস্তৃতি ও প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। নতুন নতুন AI সমৃদ্ধ প্রযুক্তির আগমন এবং ঐসব প্রযুক্তির নতুন নতুন ব্যবহারে প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে চলে আসা যুদ্ধের সব নিয়ম-কানুন ও হিসাব নিকাশ। যেমন, নিকট অতীতে সংঘটিত নাগরনো-কারাবাখ যুদ্ধে UCAV ও লয়টারিং মিউনিশন এর বিরুদ্ধে ট্যাংক ও গোলন্দাজ বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অসহায়ত্ব দেখে সবাই এখন ঝুঁকে পড়েছে UCAV ও লয়টারিং মিউনিশনের দিকে। এই যুদ্ধ বিশ্বকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অও সমৃদ্ধ প্রযুক্তি ও সঠিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) সাপোর্ট ব্যতীত শ্রেষ্ঠ ট্যাংক ও গান এবং ভালোমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অধিকারী সুপ্রশিক্ষিত একটি বাহিনীও কত অসহায়। UAV ও UCAV ব্যতীত সামরিক ক্ষেত্রে এখন বিদ্যমান AI সমৃদ্ধ প্রযুক্তির তালিকা অনেক লম্বা এবং নিজেদের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার জন্য পরাশক্তি দেশসমূহ কিছু কিছু প্রযুক্তি অধিকারে ও ব্যবহারে থাকার তথ্য সঠিকভাবে প্রকাশ হতে বিরত থাকছে। প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন চলে আসায় পূর্বের প্রচলিত গাইডেড বোমাকে এখন ‘বোবা বোমা’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। রণকৌশলের আমূল-পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে, ঊড ড্রোন, আনম্যানেড গ্রাউন্ড ভেহিক্যাল, AI গান, এরিয়্যাল এবং সি ড্রোন সোয়ার্ম, পারসোনাল বা মিনি ড্রোন, সার্চ এন্ড রেসকিউ রোবট, আন্ডার ওয়াটার আনক্রুড ভেহিক্যাল (UAV), এক্সট্রা লার্জ আন্ডার ওয়াটার আনক্রুড ভেহিক্যাল (XUUV), আনম্যানেড অ্যাম্পিভিয়াস ড্রোন বোট, বড়-মাঝারি-ছোট আনক্রুড সারফেস ভেহিক্যাল (LUSV, MUSV, USV), স্যাটেলাইট কন্ট্রোলড গান, ফেশিয়াল রিকগনিশন টেকনলজি ও অসংখ্য রকমের নজরদারি প্রযুক্তির আগমনে। ইসরাইল নিয়ে এসেছে অটোমেটিক টার্গেট রিকগনিশন (অঞজ) ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অও ব্যবহার করে সেনা, নৌ ও বিমান সেনারা একই সাথে অভিন্নভাবে টার্গেট পর্যবেক্ষণ এবং সনাক্ত করতে পারবে, নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সেনা কর্তৃক টার্গেটে আঘাত করতে পারবে। অতি সম্প্রতি ইজরাইল প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে সক্ষম মেকাপ আবিস্কারেরও ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চরম বিরোধিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চীন, ইসরাইল, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্য তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ঘাতক রোবট।
বিশ্বব্যাপী অও সমৃদ্ধ সামরিক প্রযুক্তির বিপণনে সত্যিকারের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হলো চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। Bayraktar TB2 এর ব্যবহারিক সাফল্যের প্রচারের ফলে UCAV বিক্রিতে এই ত্রয়ীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে তুরস্ক। তুর্কী UCAV উড়ন্ত অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী ড্রোনকে পাল্টা হামলা চালাতে পারায় এবং সমমানের টঈঅঠ এর চেয়ে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মাঝারি মানের সামরিক শক্তি দেশগুলোর আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে। অন্যদিকে ‘জুহায় এয়ার শো-২০২১’ এ চীন আশ্চর্যজনক সক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন প্রকারের নতুন নতুন ড্রোন উপস্থাপন করে অনেক কম দামে বিক্রির ইঙ্গিত দিয়েছে, যেটা তুর্কী ড্রোনের চাহিদা অনেক কমিয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অও সক্ষমতা সম্পন্ন দেশসমূহের এলিট ক্লাবে প্রবেশের অংশ হিসেবে সামরিক পরাশক্তি দেশসমূহের ন্যায় তুরস্কও বিভিন্ন আনম্যানেড গ্রাউন্ড ভেহিক্যাল উন্মোচন করেছে, যেগুলো প্রতিকূল ভূমি ও পানিতে চলাচলে সক্ষম এবং প্রচন্ড ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার অধিকারী বলে দাবি করা হচ্ছে। ২০০১ সাল হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে বিক্রিত ড্রোনের ৪১ শতাংশ ইসরাইল একাই সরবরাহ করেছিল। তবে বিশ্বব্যাপী এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে চীনা ড্রোন ও অও সমৃদ্ধ প্রযুক্তি। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির গুণগত মান তুলনামূলক ভালো ও স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় দামও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত উচ্চমানের সামরিক প্রযুক্তি এবং ইসরাইল উন্নতমানের সামরিক ও নজরদারি প্রযুক্তি রপ্তানি করে। চীনা প্রযুক্তির স্থায়িত্ব কিছুটা কম হলেও দাম সমমানের প্রযুক্তির চেয়ে বহুগুণ কম, চীন ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে ব্যক্তি জীবন ব্যবহার্য ও সামরিকসহ প্রায় সব ধরনের প্রযুক্তি রপ্তানি করে, প্রযুক্তি বিক্রিতে চীন, ইসরাইল ও আমেরিকার মতো কঠিন, গোপন বা প্রকাশ্য কোন শর্ত আরোপ করে বিধায় এখন অও প্রযুক্তি রপ্তানির বাজারে চীন সবাইকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে যাচ্ছে।
AI এর অগ্রগতি মানব সভ্যতার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ হলেও দিনকে দিন মারাত্মক হুমকি হিসেবেও আবির্ভূত হচ্ছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরগুলোর হাতে ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পন্ন উন্নতমানের প্রযুক্তি চলে যাওয়া হলো অনেক বড় একটি সমস্যা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের নিকট UAV ও UCAV না থাকলেও আইএস, হাউতি, পিআইজে, হিজবুল্লাহ, পিকেকের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে অসংখ্য টঅঠ ও টঈঅঠ রয়েছে। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইতে চালানো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি, যেগুলো সবগুলোর প্রতিরোধক ব্যবস্থা তখন ভারতের নিকট ছিল না (যদিও ভারত সেটা অফিশিয়ালি সরাসরি স্বীকার করেনি)। শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রের উপর অও সমৃদ্ধ প্রযুক্তির ব্যবহার করে খবরদারি ও নজরদারি, অন্যায় আগ্রাসন বর্তমান সময়ের আরেকটি অন্যতম সমস্যা। ইরাকের অভ্যন্তরে চলন্ত গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের ইসলামিক রেভুলোশনারি গার্ড কোরের প্রধান মেজর জেনারেল কাশেম সুলেমানিকে হত্যা বা ইসরাইল কর্তৃক স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত গান ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফাকরিজাদেহকে হত্যা খুব সহজেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ হয়ে উঠতে পারতো।
বিভিন্ন দেশের একনায়ক সরকার প্রধানগণ কর্তৃক গোপনে বিরোধী পক্ষ এবং নাগরিকদের মোবাইল ফোনে আড়িপাতা এখন গণতন্ত্র ও ব্যক্তি নিরাপত্তার জন্য অন্যতম একটি হুমকি। বিশ্বব্যাপী এই চরম অনৈতিক কাজের প্রতিটি ঘটনার সাথেই জড়িয়ে আছে ইসরাইলের নাম। এছাড়াও মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো কর্তৃক গোপনে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ এবং বিক্রি আরেকটি সমমানের মারাত্মক অনৈতিক কাজ। মার্কিনীদের মালিকানায় থাকা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে স্যাটেলাইট ইমেজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল গ্লোব’ কে ৫০ সে. মি. এর পরিবর্তে ২৫ সে. মি. আকারের ইমেজ বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহের অনুমতি প্রদান করেছে মার্কিন প্রশাসন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি ১০ সে.মি. আকারের ইমেজ সরবরাহের অনুমতি পাওয়ার ব্যাপারেও অত্যন্ত আশাবাদী! এর ফলে সারাবিশ্বে সকল ক্ষেত্রে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর আরো কী মারাত্মক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে তা অকল্পনীয়। হ্যাকিং ও সাইবার হামলা এখন একটি নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, গত দশক ধরে চলে আসা ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সাইবার হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি চরম হুমকি।
গত ১৫ জুলাই ২০২০ তারিখে হ্যাক হয়ে যায় জেফ বেজোস, বিল গেটস, ইলন মস্ক, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট), টেক জায়ান্ট এ্যাপলসহ বিশ্বের খ্যাতনামা ১৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের টুইটার একাউন্ট। এই হ্যাকিংয়ের ফলে সৃষ্ট বিটকয়েন ধাপ্পাবাজিতে অর্থ খোয়ান বহুলোক। এই হ্যাকিং থেকে আরো মারাত্মক কিছুও ঘটে যেতে পারতো। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২১ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া লোকজনের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতো কিছুর ভিড়ে আমাদের দেশে সংগঠিত ও চলমান ই-কমার্স জালিয়াতির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা থেকে না হয় ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত থাকলাম, যেহেতু এর সাথে জনসাধারণের অতিলোভ ও হুজুগে মনোভাবও জড়িত।
পরবর্তী দরজার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও মায়ানমারের সাথে আমাদের স্থল ও নৌ সীমান্ত রয়েছে। ভারত একটি আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তি ও পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র, ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও দ্বিপাক্ষিক, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক এবং আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বর্তমানে কূটনৈতিক ও অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে ভারতের সাথে কিছু মতবিরোধ থাকলেও ওগুলোর সমাধান সম্পূর্ণ কূটনৈতিক (মনে রাখতে হবে যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও সীমান্তে চোরাকারবারি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উপর কঠোর হওয়া এক জিনিস না)। সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান না হলেও ভারতের সাথে আমাদের মারাত্মক কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা খুবই ক্ষীণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে আক্রমণাত্মক ও প্রথম আঘাত নীতিতে বিশ্বাসী নয়।
আমাদের অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার স্বাধীনতার লাভের পর হতেই অধিকাংশ সময় এবং বর্তমানেও সামরিক জান্তা শাসিত। স্বভাবতই মিয়ানমার সামরিকভাবে প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষী, এমনকি উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মায়ামারের সাথে আমাদের অফিশিয়াল সম্পর্ক যেটাই হোক না কেন, মায়ানমারের আচরণ সবসময় আক্রমণাত্মক ও অগণতান্ত্রিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক। ১৯৯১ সালে রেজুপাড়া সীমান্তে আমাদের বিওপি আক্রমণ, ২০০৮ সালে আমাদের সমুদ্রসীমার কিছু অংশ দখলের অভিপ্রায়ে অবৈধ প্রবেশ, ২০১৪ সালে কাপুরুষের মতো বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়ে বিজিবি নায়েক মিজানুরকে শহীদ করা, ২০১৮ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে নিজেদের অংশ দেখিয়ে ম্যাপ প্রকাশ, এযাবৎ দশ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি বলে দাবি করা এবং অদ্যাবধি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে মিয়ানমার বারংবার আক্রমণাত্মক ও ষড়যন্ত্রমূলক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এমনকি মায়ানমারের তথাকথিত গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সুকি’র বক্তব্যও অত্যন্ত আপত্তিকর এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। মায়ানমারের নিকট কিছু চায়নিজ ঈঐ-৩ সিরিজের টঈঅঠ থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে। ঐ দেশীয় সংবাদপত্র গুধহসধৎ ঘড়-িএর মাধ্যমে জানা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন কমান্ডের তৎকালীন মুখপাত্র কর্নেল উইন ঝাও ও বলেছেন, ‘আমরা এখন নজরদারি ড্রোন ব্যবহার করছি (টঈঅঠ ব্যবহার করে হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনটাই না করে)।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘অবশ্যই প্রয়োজন হলে আমরা ওগুলো ব্যবহার করবো। এটা যুদ্ধ এবং আমরা জেতার জন্য লড়াই করি। ঝগড়ার সময় শিশুও কামড় দিয়ে বসে যখন সে মনে করে হেরে যাচ্ছে।’ মিয়ানমারের নিকট কয়টি ও কি ধরনের টঈঅঠ রয়েছে এবং সেগুলো কোন দেশের তৈরি প্রশ্নে কর্নেল উইন ঝাও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। মিয়ানমার সম্পর্কিত অন্য আরেকটি বড় দুঃখজনক ও চিন্তার বিষয় হলো, আমাদের দেশে পাচার হয়ে আসা সিংহভাগ মাদক দেশে প্রবেশ করে মূলত মিয়ানমার হয়ে (নৌ ও স্থল উভয় পথে), অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ভঙ্গুর অর্থনীতির মায়ানমারের জান্তা সরকারের রাষ্ট্রীয় মদদের কারণে এই মাদক প্রবেশ কোনভাবেই বন্ধ করা বা কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। সার্বিকভাবে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান, মিয়ানমারের সাথে সামরিক শক্তির সামঞ্জস্য বজায় রাখা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
মিয়ানমারের মতো সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাংলাদেশে বিদ্যমান না থাকলেও, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দেশের অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম হুমকি। স্থায়ী শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশের সংবিধানের উর্ধ্বে গিয়ে নজিরবিহীনভাবে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছরেও স্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব হচ্ছে না মূলত নবোদ্যমে ফুলে ফেঁপে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো কর্তৃক দেশের অখণ্ডতার প্রতি সৃষ্ট হুমকির কারণে, যেটা গভীর সামরিক ও কৌশলগত জ্ঞান ব্যতীত অনুধাবন করা কঠিন। এই উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মূল উদ্দেশ্য যে কোনভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশের মূল ভূ-খণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং পার্বত্যবাসীকে জিম্মি করে রেখে তাদের ইচ্ছাধীন চাঁদাবাজি, গুম, খুন, অপহরণ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার অভয়ারণ্য তৈরি করা। মুখোশের অন্তরালে এদের এই হীন উদ্দেশ্যের কারণে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘটিত সংঘর্ষগুলো হয় অত্যন্ত ভয়াবহ এবং মারাত্মক প্রাণঘাতী। এক ছড়া কলা থেকে শুরু করে এক আঁটি বাঁশ যেটাই বিক্রি করা হউক না কেন, পাহাড়বাসীদের চাঁদা দিতে হয় এই সন্ত্রাসীদেরকে, তাদের গড়া নিয়মের বিরোধিতা করলেই হয়তো ব্রাশফায়ারে প্রাণ দিতে হবে, নয়তো গুম অথবা অপহরণের শিকার হতে হবে।
শান্তি চুক্তির পর হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই যাবৎ উদ্বারকৃত অস্ত্রের বৃহৎ বৃহৎ চালানের উৎস ও সংঘটিত ব্রাশফায়ারসমূহের প্রকৃত কারণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সাথে প্রতিবেশী দেশসমূহের বহু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের গভীর আঁতাত রয়েছে, বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমারে বিদ্যমান কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সাথে। দুর্গম সীমান্ত এলাকা ও যোগাযোগ অনুন্নত বিশাল পার্বত্য অঞ্চলকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো কর্তৃক সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণে রাখা অত্যন্ত দূরহ একটি কাজ। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর গতি-প্রকৃতি এবং প্রাত্যহিক কার্যক্রম সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল তাদের ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনেকটা অসম্ভবের মতো একটি বিষয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অত্যন্ত সততা এবং দক্ষতার সাথে এ যাবতকাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে, কিন্তু বহুবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে চিরতরে নির্মূল করা সম্ভবপর হচ্ছে না। অসংখ্য আত্মত্যাগের পরে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাহাড়ে রয়ে গেছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও ব্রাশফায়ার।
অও সমৃদ্ধ বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত এলাকাসমূহ আরো সুরক্ষিত করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর গতি-প্রকৃতি আরো সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা খুবই সম্ভব। যেটা অচিরেই পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি অর্জন এবং শান্তিচুক্তির সফল পূর্ণ বাস্তবায়নের দ্বার উন্মোচিত করবে। মোটাদাগে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি, দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করা, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসমূহকে নির্মূল করা, দেশের বিশাল সমুদ্র সীমার সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সেটাকে ঘিরে প্রণীত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা, দেশবাসীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘ মেয়াদী এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা আমাদের একান্ত আবশ্যক।
লেখক: প্রতিরক্ষা বিষয়ক তথ্য সংগ্রাহক

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments