Friday, April 19, 2024
spot_img
Homeজাতীয়‘আমি সরকারি দলের লোক, আমার কাছে লাইসেন্সধারী গুণ্ডা আছে’

‘আমি সরকারি দলের লোক, আমার কাছে লাইসেন্সধারী গুণ্ডা আছে’

বাঁশখালীতে নৌকার প্রার্থীর ঘোষণা

বাঁশখালীর একটা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুল হকের রাতেই ২০ হাজার ভোট নেয়ার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভাইরাল। এবার একই উপজেলার আরেক ইউনিয়নের নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকের হোসেন চৌধুরী পুলিশ প্রশাসনের লোকদের সরকারি গুণ্ডা উল্লেখ করে তারা নির্বাচনে তার জন্য কাজ করবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি দলের লোক। আমার কাছে লাইসেন্সধারী সরকারি গুণ্ডা আছে। তারা আমার জন্য কাজ করবেন।’
সোমবার বাঁশখালী উপজেলার ১১ নং পুঁইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে সেখানকার প্রেমবাজারে এই বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকের হোসেন চৌধুরী। তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য।  চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকের হোসেন বলেন, ‘আমি সরকারি দলের লোক, আমার তো সরকারি গুণ্ডা আছে। আছে না? লাইসেন্সধারী! এরা কি ওদের কাজ করবে? আমি নির্দেশ দিলে উনারা আমার কাজ করবেন। হুমকি ধামকিকে আপনারা পরোয়া করবেন না।’ এদিকে জাকির হোসেনের এই বক্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ বক্তব্য নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। 
মোহাম্মদ হোসেন নামে চট্টগ্রাম কলেজের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেন, ‘এই হলো তাদের নির্বাচন ব্যবস্থা।

প্রকাশ্যে তারা ভোট ডাকাতির কথা বলছেন। পুলিশ বাহিনীকে তাদের লাইসেন্সধারী গুণ্ডা বলছেন। আসল কথা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে দানব করে তুলছে।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে এইসব লোককে বিএনপি-জামায়াত ব্যবহার করছে। তারা এসব বেফাঁস বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে।’
তবে বিতর্কিত এই বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি একরকম। আর ষড়যন্ত্রকারীরা এটাকে বিকৃত করে প্রচার করছে অন্যভাবে। আমি বলেছি, আমি সরকারের লোক। কাজেই আমার এখানে মাস্তানি করা যাবে না। ভোট ডাকাতি করা যাবে না। আমি এটাই বলেছি। অন্যকিছু বলিনি।’
এদিকে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আলম বলেন, বক্তব্যটা আমরা দেখেছি। এটা আপত্তিকর বক্তব্য। এর আগের বক্তব্যের জন্য মুজিবুল হক চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments