Sunday, January 16, 2022
spot_img
Homeধর্মআদর্শ সমাজ গঠনে দ্বিনি দাওয়াতের গুরুত্ব

আদর্শ সমাজ গঠনে দ্বিনি দাওয়াতের গুরুত্ব

সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দ্বিনি দাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। যুগে যুগে আগত নবী-রাসুলরা মানুষকে দাওয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহমুখী করেছেন। সর্বশেষ মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। তাই মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ পালনের আহবান জানানো মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সর্বোত্তম জাতি, যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎকাজ থেকে বারণ করবে এবং মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১১০)

দ্বিনি দাওয়াত দেওয়া সবার দায়িত্ব : আল্লাহর দিকে মানুষকে আহবান করা সব মুসলিমের দায়িত্ব। একক ও সামগ্রিকভাবে সাধ্যমতো তা পালন করা ওয়াজিব। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন এক দল হোক, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; তারাই সফলকাম।’

(সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১০৪)

তাফসিরবিদ ইমাম তাবারি (রহ.) ও ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর মতে, উল্লিখিত আয়াতে ‘তোমাদের মধ্যে’ বলতে একটি নির্দিষ্ট অংশকে বোঝানো উদ্দেশ্য। অনেকের মতে, আয়াত দ্বারা সামগ্রিকভাবে সবাইকে উদ্দেশ্য। উভয় কথার সমন্বয় করে আলেমরা বলেন, মুসলিম উম্মাহর একটি অংশের জন্য দাওয়াত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বারণের দায়িত্ব পালন করা ফরজে কিফায়া। আর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধ্যমতো ইসলামের দাওয়াত, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। (মাজমুউল ফতোয়া : ১/১০৩)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনদের সবার একসঙ্গে (অভিযানে) বের হওয়া উচিত নয়, তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দ্বিন সম্পর্কে গভীর জ্ঞানার্জন করতে পারে, নিজ জাতির কাছে ফিরে যেন সতর্ক করতে পারে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১২২)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, আপনি তা না করলে তো আপনি তাঁর মহান বার্তা প্রচার করলেন না, আল্লাহ আপনাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৬৭)

এসব আয়াত দ্বারা সব যুগে সব স্থানে দাওয়াতের অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়।

রাসুলদের দায়িত্ব : আল্লাহর দিকে আহ্বানের দায়িত্ব নবী-রাসুল ও তাঁদের অনুসারীরা পালন করেছেন। তাই স্বতন্ত্রভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকা নবীদের দায়িত্ব পালনের সমতুল্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী, আপনি বলুন, এটাই আমার পথ, আমি মানুষকে সজ্ঞানে আল্লাহর পথে আহবান করি, আমি ও আমার অনুসরণকারীরাও।’

(সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৮)

সর্বোত্তম কথা : দ্বিনের দাওয়াত আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম কথা বলে বিবেচিত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার রবের দিকে আহবান করুন প্রজ্ঞা, উত্তম আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে সর্বোত্তম উপায়ে বিতর্ক করুন, আপনার প্রতিপালক ভালো জানেন কারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, কারা সৎপথ ছেড়ে বিপথগামী হয়েছে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

দাওয়াতের প্রতিদান অগণিত : দাওয়াতে সাড়া দিয়ে কেউ আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ করলে সেই আমলের সমমান সওয়াব আছে। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কল্যাণের পথ দেখায়, সে ওই ব্যক্তির মতো সওয়াব পাবে, যে তা করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯০)

মহান আল্লাহ মানুষকে নিজের বুদ্ধি-বিবেক ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। দাওয়াতের উপায়-উপকরণ নির্ধারণে তার ব্যবহার জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি এই কিতাব আপনার ওপর অবতরণ করেছি, যেন মানুষ তাঁর নিদর্শন অনুধাবন করে এবং বিজ্ঞ ব্যক্তিরা যেন উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ২৯)

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments