গত আগস্ট মাসে সারা দেশে ৩০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৯ জন নিহত এবং ৩৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৩২ জন শিশু রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, গত জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে। গত জুলাই মাসে ২৯৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এই হিসাবে আগস্ট মাসে দুর্ঘটনা ৩.০৭ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৬.৪৬ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টের প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, দুর্ঘটনার মধ্যে এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। মোট ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৯ জন নিহত, যা মোট নিহতের ৩৪.০৩ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪০.০৬ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৮১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১.৩৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৭ জন, অর্থাৎ ১২.৪০ শতাংশ।

এই সময়ে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত, ৩২ জন আহত ও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৬টি পৃথক রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় বাসযাত্রী ১৬ জন, ট্রাকযাত্রী ৮ জন, পিকআপ যাত্রী ১৫ জন, কাভার্ডভ্যান যাত্রী ৩ জন, মাইক্রোবাস যাত্রী ১৩ জন, প্রাইভেটকার যাত্রী ১৭, ট্রলি যাত্রী ৩ জন, লরি যাত্রী ১ জন, ট্রাক্টর যাত্রী ২ জন, জীপ যাত্রী ১ জন, সিএনজি যাত্রী ১০ জন, ইজিবাইক-অটোরিকশা যাত্রী ৪৬ জন, নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র যাত্রী ২১ জন, রিকশা যাত্রী ৬ জন, লেগুনা যাত্রী ৩ জন এবং বাই-সাইকেল আরোহী ৪ জন নিহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ১১ জন, চিত্রশিল্পী ১ জন, পর্বতারোহী ১ জন, পুলিশ সদস্য ১ জন, গ্রাম পুলিশ ১ জন, বিমান বাহিনীর কর্মচারী ১ জন, পল্লী বিদ্যুতে চাকরিজীবি ১ জন, স্কুল প্রহরী ১ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৩ জন, ঔষধ ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ৯ জন, রাজমিস্ত্রী-কাঠমিস্ত্রী ২ জন, মিল শ্রমিক ২ জন, পোশাক শ্রমিক ৮ জন, মাছ-সবজি ও গরু ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী ২৯ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ২ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৮ জন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন ও ঢাকা কলেজের ১ জনসহ)।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৩টি (৩৭.৪১ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ৯৮টি (৩২.৪৫ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি (১৭.৫৪ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৩৮টি (১২.৫৮ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনাসমূহের ৭৬টি (২৫.১৬ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৮৭টি (২৮.৮০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৩টি (২৭.৪৮ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৪৪টি (১৪.৫৬ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১২টি (৩.৯৭ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২০.৮৯ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি -লরি ৩.৯১ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার- এ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৬.৫২ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৪.১৭ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৩.৬৯ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি -অটোরিকশা-লেগুনা) ১৬.৬০ শতাংশ, নসিমন-পাখিভ্যান-অটোভ্যান- ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র ১০.৬৩ শতাংশ, রিকশা, বাই-সাইকেল ২.৭৯ শতাংশ এবং অন্যান্য (ড্রাম ট্রাক, রোড রোলার, লাটা হাম্বার, কনস্ট্রাকশন মিকচার মেশিন) ০.৭৪ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৫৩৬টি। (ট্রাক ৭২, বাস ৭৬, কাভার্ডভ্যান ১৬, পিকআপ ২৪, লরি ৭, ট্রলি ৬, ট্রাক্টর ৮, মাইক্রোবাস ১২, প্রাইভেটকার ১৭, এ্যাম্বুলেন্স ৪, জীপ ২, ড্রাম ট্রাক ১, রোড রোলার ১, লাটা হাম্বার ১, কনস্ট্রাকশন মিকচার মেশিন ১, মোটরসাইকেল ১২৭, বাই-সাইকেল ৪, নসিমন-পাখিভ্যান-অটোভ্যান ২৫, ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র ৩২, ইজিবাইক-সিএনজি- অটোরিকশা-লেগুনা ৮৯ এবং রিকশা ১১টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৪.৩০ শতাংশ, সকালে ৩০.১৩ শতাংশ, দুপুরে ২২.১৮ শতাংশ, বিকালে ১৯.৫৩ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১০.৯২ শতাংশ এবং রাতে ১২.৯১ শতাংশ।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৭৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ৮৪ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। ২২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ জন।

একক জেলা হিসেবে ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৬টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত। সবচেয়ে কম মুন্সিগঞ্জে। ১টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

English