Sunday, July 14, 2024
spot_img

অ্যালগরিদমের

প্রতিবার যখনই আপনি স্মার্টফোনটি হাতে নেন ততবারই শুরু হয় অ্যালগরিদমের খেল। ফোন আনলক করা থেকে শুরু করে ফোনে রাস্তাঘাট খুঁজে বের করা—সব কিছুতেই আছে অ্যালগরিদম। শুধু তা-ই নয়, অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও আছে অ্যালগরিদমের প্রভাব। মোদ্দাকথা, এই সময়ে সব কিছুতেই যেন অ্যালগরিদমের ভরপুর উপস্থিতি।

কয়েক বছর ধরেই অ্যালগরিদম নিয়ে চলছে হৈচৈ। ডিজিটাল ডিভাইস এবং সেবার কার্যপ্রণালীকেই বলা যায় অ্যালগরিদম, সেটার মাধ্যমেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী আউটপুট পাওয়া যায়। খুব সাধারণ অ্যালগরিদমের নমুনা বলা যায়, স্মার্টফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক ব্যবহারকারীর আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে মিললে তবেই ফোনটি ব্যবহার করা যায়।

এই সময়ে একটি বিশেষ ধরনের অ্যালগরিদম নিয়েই চলছে হৈচৈ। এটির কাজ ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দ, ব্রাউজিং ডাটা, তাদের বন্ধুবান্ধব, ভৌগোলিক অবস্থান, বয়স, লিঙ্গ ও ধর্মের ওপর ভিত্তি করে তাদের সামনে বাছাই করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট, পেজ, ভিডিও এবং মূলত বিজ্ঞাপন উপস্থাপন করা। এভাবে ফিল্টার করে তথ্য উপস্থাপন করে খুব সহজেই মানুষের চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া যায় আর সেটা যদি হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতো ব্যাপক প্ল্যাটফর্মে, তাহলে তো কথাই নেই। নির্বাচন থেকে শুরু করে যুদ্ধের ফলাফলও বদলে ফেলা সম্ভব এই অ্যালগরিদমের সাহায্যে।

অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর ওয়েবসাইটগুলোর নেই কোনো বিধি-নিষেধ। ফলে তারা ইচ্ছামতো তাদের ব্যবহারকারীদের মতামত নিয়ে খেলা করছে বলেই দাবি করেছেন মনোবিজ্ঞানীরা, বিশেষ করে কোন খবর কার সামনে কখন পরিবেশন করা হবে—অ্যালগরিদম ব্যবহার করে সেটাই সবচেয়ে বেশি ম্যানিপুলেশন (কারসাজি) হচ্ছে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।

এ সমস্যার বিরুদ্ধেও একটি আইন পাস করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেন্সরকৃত নিউজফিডের পাশাপাশি সেটি বন্ধ করারও উপায় রাখতে হবে—এমনটাই করার কথা রয়েছে এই আইনে। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিল্টার বাবল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’। যদি সেটা পাস হয়, তাহলে ফেসবুক, টুইটার, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে তাদের ব্যবহারকারীদের সামনে সহজভাবে অ্যালগরিদম বন্ধ করার উপায় উপস্থাপন করতে হবে। ফলে চাইলে ব্যবহারকারীরা শুধু বাছাই করা পোস্ট নয়, বরং সব কিছুই দেখতে পারবে সমানভাবে।

ফেসবুক এ কাজের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে কুখ্যাত। তারা অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছে ব্যবহারকারীদের মতের বিরুদ্ধের সব কনটেন্ট তুলে ধরার, তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বপ্রকার নেতিবাচক সংবাদ নিউজফিডে দেওয়ার। ফেসবুকের এআই আবিষ্কার করেছে মানুষ ভালোর চেয়ে খারাপ সংবাদ এবং বিতর্কিত পোস্টেই বেশি রিঅ্যাক্ট করে, সেখানে কমেন্টও করে বেশি। আবার সেটাকে সমালোচনা করে শেয়ারও করতে পছন্দ করে। ফলে বাস্তবতার একটি অতিরঞ্জিত সংস্করণ, যা দেখে ব্যবহারকারীর মনে হবে তার চারপাশের দুনিয়ার অবস্থা ভালো নয় এবং তাকে সেটির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে—সেটাই নিউজফিডের মাধ্যমে তারা বারবার তুলে ধরছে।

সামাজিক যোগাযোগে অ্যালগরিদমের ফলে নির্বাচনে ম্যানিপুলেশন হয়েছে এমন অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের আদালতে হাজির হয়েছে বিগত বছরগুলোতে। ফলে কিছু নতুন নীতি ফেসবুক ও টুইটার করেছে এর মধ্যেই। যুক্তরাষ্ট্রে এই বিলটি পাস হলে বাকি দেশগুলোতেও এমন আইনের দেখা পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Previous article
Next article
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments