Sunday, June 16, 2024
spot_img
Homeজাতীয়অনেক দলের অংশগ্রহণই গণতন্ত্র নয়

অনেক দলের অংশগ্রহণই গণতন্ত্র নয়

রাজনীতিতে অনেক দলের উপস্থিতিই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রমাণ করে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ। বলেছেন, গণতন্ত্রের অন্যান্য উপাদানের কথা বাদ দিয়েও বলা যায় ক্ষমতাসীনদের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে অনেক দলের উপস্থিতি বহুদলীয় ব্যবস্থা নয়। রাশিয়ায় অনেক দল আছে, কম্বোডিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং তুরস্কে যা ঘটছে অন্য রকম ইঙ্গিত দেয়। গতকাল ‘ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ’  আয়োজিত “বাংলাদেশের রাজনীতি: কোথায় দাঁড়িয়ে, গন্তব্য কোথায়?” শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন।  প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদল ঘটানোর জন্য রাজপথের চাপ তৈরি করতে হবে। রাজপথে চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অহিংস পথে টিকে থাকা। গত কয়েক মাস বিএনপি সেটাই করছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের হাতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী আছে এবং ক্ষমতার উচ্চ পর্যায় থেকেই ক্রমাগতভাবে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। 

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিরোধীরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছেন কিনা সেটাই আগামী কয়েক মাসে দেখা যাবে; সেই কারণেই আগামী কয়েক মাসেই রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারিত হবে।  অর্থনৈতিক সংকট, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ তৈরি করা ও বিদেশিদের চাপের কারণে জুলাই মাস থেকে সরকার বিরোধীদের ছাড় দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।  সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে পরিচালিত হয়।

অনেকটা জমিদারের মতো। জমিদার সবকিছু বোঝে। নায়েবরা তার কাছে কিছু প্রস্তাব নিয়ে আসে। তারপর উনি পদক্ষেপ নেন। ওনাকে না জানিয়ে নায়েবরা যদি কোনো পদক্ষেপ নেন তাহলে উনি খুব ক্ষিপ্ত ও বিরক্ত হন। আমি মনে করি এটা স্বাধীনতার পর থেকে হয়ে আসছে।  তিনি বলেন, আমরা এরশাদবিরোধী আন্দোলন দেখেছি। তখন মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বৈরতন্ত্রকে পরাজিত করে গণতন্ত্র আনতে হবে।

 এরপর ’৯১তে আমরা ভাবলাম গণতন্ত্রের বিজয় হলো। কিন্তু তা হলো না। তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা মরতে মরতে মমিতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন ভাবে আওয়ামী লীগকে সরিয়ে দিয়ে কাকে ক্ষমতায় আনবো? যাকে আনবো তারা কি খুব গণতান্ত্রিক? আমরা এখন মাঝ সমুদ্রে অবস্থান করছি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গন্তব্য আমরা জানি না।  সাংবাদিক মনির হায়দারের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ। দুর্ভাগ্যবশত রাজনীতির লক্ষ্য এখন আর জনকল্যাণ নয়। এখন রাজনীতির লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় টিকে থাকা। রাজনীতি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। এটার কোনো বিকল্প নাই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments