আমাদের দেশ গ্রীষ্মপ্রধান। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীত ছাড়া বাকি সময় শরীর সহজেই ঘামে। বর্ষার সময় আর্দ্রতা আরো বেশি থাকে বলে ঘাম শুকাতেই চায় না। ময়লা আর ঘাম জমে শরীরে আঠালো ভাবের সৃষ্টি হয়। যাঁদের ঘামজনিত অসুখ আছে তাঁরা এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। ঘামজনিত সমস্যা সাধারণত দুই রকম। অত্যধিক ঘাম ও দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম।

 

অত্যধিক ঘাম

ইংরেজিতে একে হাইপার হাইড্রোসিস বলা হয়। এটাও দুই ধরনের হতে পারে। শরীরের কিছু অংশ যেমন—হাত ও পায়ের তালু, বগল, দুই ঊরুর মধ্যকার অংশ ও পেছনে মলদ্বারের আশপাশের জায়গা, নাকের অগ্রভাগ, কপাল ইত্যাদি স্থানে ঘামতে পারে। এ ধরনের স্থানীয় এলাকার ঘামের প্রথম ও প্রধান কারণ হলো ইমোশন বা আবেগপ্রবণতা ও মানসিক চাপ। স্নায়ুতন্ত্রের কিছু রোগের কারণেও হতে পারে। আবার কারণবিহীন বা ইডিওপ্যাথিক হাইপার হাইড্রোসিস হতে পারে দুশ্চিন্তা, টেনশন, ভয় ইত্যাদি থেকে।

দ্বিতীয় ধরনটি হলো পুরো শরীর ঘেমে যাওয়া। খুব গরম, অত্যধিক আর্দ্র পরিবেশ, ব্যায়াম ও পরিশ্রমের জন্য বেশি ঘাম হতে পারে। তবে অসুখের জন্যও হতে পারে। যেমন—জ্বর ছেড়ে দেওয়ার সময়ের ঘাম। শরীরের হরমোনের তারতম্যের কারণেও হতে পারে। যেমন—ডায়াবেটিস, থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ, গর্ভাবস্থা, মাসিক বন্ধের পরবর্তী পর্যায়ে, স্নায়ুতন্ত্রের অসুখ ও বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার।

 

বাঁচার উপায়

কিছু ওষুধ আছে যা সেবন করলে অতিরিক্ত ঘাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার কারণে এগুলোর ব্যবহার খুবই সীমাবদ্ধ। কিছু ক্ষেত্রে ঘুম ও মানসিক প্রশান্তির ওষুধও কিছুটা কাজ করে। সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হচ্ছে স্থানীয়ভাবে লাগানোর জন্য ২০ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট। প্রতি রাতে শুকনো শরীরে লাগিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করার পর ভালো হয়ে গেলে সপ্তাহে এক দিন করে ব্যবহার করতে হয়।

 

দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম

এটা সাধারণত বগলে দেখা যায় বেশি। শরীরে দুই ধরনের ঘর্ম নিঃসরণ গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি রয়েছে। একটি এপোক্রিন ও অন্যটি এক্রাইন গ্রন্থি। এপোক্রিন গ্রন্থি হতে নিঃসরিত ঘাম সাধারণত জীবাণুমুক্ত থাকে এবং দুর্গন্ধহীন হয়। কিন্তু এ ধরনের ঘামে এক ধরনের গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া যুক্ত হয়ে ফ্যাটি এসিড তৈরি করে ও ঘামকে করে তোলে দুর্গন্ধযুক্ত। অন্যদিকে এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি হতে নিঃসরিত ঘাম হয় পায়ের পাতা, স্তনের নিচ, দুই ঊরুর সন্ধিক্ষণ ইত্যাদি স্থানে। এখানকার ত্বক থেকে নিঃসরিত কেরাটিনের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া মিশে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।

 

বাঁচার উপায়

♦ আক্রান্ত এলাকা ভালোভাবে ধোয়া।

♦ সম্ভব হলে জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক সাবান ব্যবহার করা।

♦ অ্যান্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করা।

♦ বগলের লোম পরিষ্কার রাখা।

♦ অন্তর্বাস বা আন্ডারওয়্যার নিয়মিত বদলানো।

♦ পায়ের তালুতে বা আঙুলের ফাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক বা পাউডার ব্যবহার করা।

♦ পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট সলিউশন প্রতিদিন আধঘণ্টা ব্যবহার করলেও কিছু দিনের মধ্যে পা দুর্গন্ধমুক্ত হবে।

English